পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার শিকার আকলিমা দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া উনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামার পুকুর গ্রামে। তার বাবা মৃত আবেদ আলী। গত ২৩ আগস্ট নিহতের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর তদন্ত করতে গিয়ে ধরা পড়ে খুনি ও ধর্ষকরা।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সম্প্রতি আকলিমা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু ২২ আগস্ট বাবার বাড়ির লোকজন তাকে গালমন্দ করে। এতে আকলিমা রাগ করে বাবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরদিন সকালে বাড়ির পাশে ১০০ গজ দূরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ ডারবি সিগারেটের খোলে লেখা একটি সুইসাইড নোট পায়। সেই সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গত ২৭ আগস্ট ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গজ দূরে একটি সিগারেটের খোলের উল্টোদিকে সুইসাইড নোটের মতো আরও একটি লেখা পাওয়া যায়। সেটিও জব্দ করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে এলাকার ৬০-৭০ জনের কাছে জানতে চায়, কারা কারা ওই সিগারেট খায় এবং তাদের হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হয়। এর মধ্যে আনারুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তির হাতের লেখা মিলে যায়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আকলিমা হত্যার রহস্য।
আসামি আনারুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, নিহতের কোমরে গুজে রাখা সুইসাইড নোট তার হাতের লেখা। আকলিমাকে সন্ধ্যার দিকে ওই স্থানে পেয়ে খাবার ও টাকা দেওয়ার কথা বলে পাশের বাঁশঝাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এক পর্যায়ে আকলিমা বাধা দিলে মাছ ধরার বালতির সঙ্গে থাকা রশি পেচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘটনাস্থলে থাকা বৈদ্যুতিক পোলে রশি লাগিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সিগারেটের খোলের কাগজে সুইসাইড নোট লিখে নিহতের কোমরে গুজে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দুপর সার্কেল) অশোক কুমার পাল ও স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা।