এর আগে, গত ৩ মে দেশে ফেরার সময় ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়া ২৬ বাংলাদেশিকে আটক করে ভারতের ধুবড়ি পুলিশ। এদের একজন ভারতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায়।
ধুবড়ি এসপি অফিসের বর্ডার ব্রাঞ্চের সাব ইন্সপেক্টর নূরুল ইসলাম ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৫ বাংলাদেশি কারামুক্ত হলেও গৌহাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কাগজ হাতে না পাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে রওনা হওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা গাড়িসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রওনা দিতে পারিনি।’
করামুক্তি হলেও আটক বাংলাদেশিরা এখনও ধুবড়ি জেল সুপারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জানিয়ে বর্ডার ব্রাঞ্চের এই এসআই বলেন, ‘মঙ্গলবার যেকোনও সময় গৌহাটি স্বরাষ্ট্র দফতরের কাগজ পেলে ২৫ বাংলাদেশিকে নিয়ে চেংরাবান্দা চেকপোস্টের উদ্দেশ্যে রওনা করা হবে।’
এদিকে সোমবার দুপুরে রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সংগঠক নাহিদ হাসান নলেজ ভারতের কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তিতে সহায়তাকারী, ধুবড়ির সাবেক বাম নেতা উজ্জ্বল ভৌমিকের বরাত দিয়ে আটক বাংলাদেশিদের দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার রাত ৯টায় নাহিদ হাসান নলেজ জানান, গৌহাটি স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রয়োজনীয় কাগজ না পৌঁছায় শেষ পর্যন্ত আটক বাংলাদেশিরা দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেননি।
নাহিদ হাসান নলেজ বলেন, ‘ভারতের কারাগার থেকে বাংলাদেশিদের মুক্তিতে সহায়তকারী আমাদের বন্ধুরা জানিয়েছেন, আদালতের আদেশে আজ ভারতের ধুবড়ি কারাগার থেকে বাংলাদেশিরা ছাড়া পেয়েছেন। ভারতে আটক বাংলাদেশি আমিনুল ইসলাম কারাগার থেকে বের হয়ে ফোনে বাংলাদেশে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের গ্রহণ করার জন্য মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশিদের স্বজনরাসহ আমি নিজেও বুড়িমারি চেকপোস্টে পৌঁছেছি। কিন্তু এখানে আসার পর জানতে পারি তাদের কারামুক্তি হলেও গৌহাটি স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রয়োজনীয় কাগজ হাতে না পাওয়ায় ধুবড়ি পুলিশের বর্ডার ব্রাঞ্চের সদস্যরা আটক বাংলাদেশিদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত রওনা হননি। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র দফতরের কাগজ হাতে পেলেই আটক বাংলাদেশিদের নিয়ে তারা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসবেন।’
২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ২৬ বাংলাদেশি ভারতে যান। বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ভিসা থাকলেও ভারতে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন চলার মধ্যে গত ২ মে ওই ২৬ জন বাংলাদেশি দুটি মিনিবাসে আসামের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পশ্চিমবঙ্গের চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা ছিল তাদের। ভারতে জেলে ও খামারকর্মী হিসেবে কাজ করা এসব বাংলাদেশিকে পরদিন (৩ মে) সকালে বাহালপুর এলাকা থেকে আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ। করোনা পরীক্ষার পর তাদের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। গত ৫ মে ওই ২৬ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং ফরেনার্স (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০০৪ এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৬৭-এর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দেশটির পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাসপোর্টধারী এসব বাংলাদেশি টি-ওয়ান ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এই ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি না থাকলেও আসাম পুলিশের অভিযোগ, এই বাংলাদেশিরা রাজ্যের জোরহাট, গোলাঘাট ও শিবসাগর এলাকায় কর্মসংস্থান কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তাদের মুক্তির দাবিতে কুড়িগ্রামে একাধিকবার মানববন্ধন করেন আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা। এরমধ্যে গত ১ জুলাই কারা হেফাজতে বকুল মিয়া নামে এক বাংলাদেশি মারা গেলে চারদিন পর তার মরদেহ দেশে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। অপর ২৫ বাংলাদেশি প্রায় চার মাস পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেয়েছেন।