মাছ আমদানি বন্ধ হলে দেশের চাষিরা লাভবান হবে

বেনাপোল মাছের ছবি ২

বাইরে থেকে মাছ আমদানি বন্ধ হলে দেশের চাষিরা লাভবান হবেন। ভারতে এদেশের মিঠা পানির সাদা মাছের চাহিদা থাকায় বেনাপোল দিয়ে মাছ রফতানি বাড়ছে। তবে ভারতীয় মাছের দাম কম থাকায় ভারত থেকে রুই জাতীয় মাছ এখনও দেশে আসছে। দেশের মাছ চাষিরা বলছেন, ভারত থেকে মাছ আমদানি বন্ধ হলে তারা লাভবান হতেন।

বেনাপোলের ফিশারিজ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, '২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতে মাছ রফতানি হয়েছে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩০ কেজি এবং গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) রফতানি হয়েছে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৮ কেজি মাছ। একইসঙ্গে ভারত থেকে এদেশে মাছ আমদানি হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ১৬ হাজার ৩২৫ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৮ কেজি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৯১৫ কেজি। ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারত থেকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৬৬ মার্কিন ডলার মূল্যে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৫৮৭ কেজি সাদা মাছ আমদানি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতে রফতানি হয়েছে ৯৯ লাখ ১০ হাজার ১৮০ মার্কিন ডলার মূল্যের ১৬ লাখ ৬২ হাজার ১২৪ কেজি মাছ।'

বেনাপোল মাছের ছবি

শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, ভারত থেকে আমদানি হয় রুই, কাতল, সামুদ্রিক ও স্বাদু পানির মাছ। আর বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয় পাবদা, গুলশা, টেংরা, পাঙ্গাস, হিমায়িত চিংড়ি, কার্প, ভেটকিসহ অন্যান্য মাছ। এর মধ্যে পাবদা মাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় মোট রফতানির ৪০ শতাংশই পাবদা। পাবদা মাছ বেশি উৎপাদিত হয় যশোর জেলায়।

তিনি বলেন, ভারত থেকে যেসব মাছ আমদানি হচ্ছে সেগুলো এখন স্থানীয়ভাবেই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। বর্তমানে এ জাতীয় মাছ আমদানি না করলেও অসুবিধা নেই। আমদানি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা ব্যাপক লাভবান হতেন।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, দাম কম হওয়ার কারণে ভারত থেকে রুই-কাতল আমদানি হচ্ছে। এসব মাছের থেকে আমাদের দেশের রুই মাছের স্বাদ অনেক ভালো। সে কারণে দেশের মাছ চাষিরা মৌখিকভাবে ভারত থেকে সাদা মাছ আমদানি বন্ধের দাবি করে আসছে। এটি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা লাভবান হবেন। এক সময় ভারতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ রফতানি হতো। ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রফতানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার।

শার্শার মাছ আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানের মালিক রুবাই জানান, বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে যে সব সাদা মাছ আমদানি হয় তার ব্যাপক চাহিদা আছে দেশে। এখন বর্ষা মৌসুমে মাছের আমদানি কিছুটা বেশি। কিন্তু আমরা তো সারাবছর মাছ আমদানি করি। ঘাটতির সময়ে আমরা তা পূরণ করি।