ইবি শিক্ষার্থী তিন্নি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৪

উলফাত আরা তিন্নি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উলফাত আরা তিন্নিকে ঘরে ঢুকে নির্যাতন ও তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তবে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জামিরুল পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে শেখপাড়া এলাকার কনুর উদ্দিনের ছেলে আমিরুল, নজরুল, লাবিব ও তন্ময়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিন্নি।

নিহত তিন্নির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন্নিরা তিন বোন। তার বাবা মৃত ইউসুফ মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।  ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার শৈলকূপা থানাধীন যোগীপাড়া গ্রামের তাদের স্থায়ী নিবাস। তবে মাসহ তারা দুই বোন থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন নিজস্ব দোতলা বাসায়। বড় বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। তিন বোনের মধ্যে তিন্নি ছিলেন ছোট। মেঝ বোনের বিয়ে হয়েছিল তাদের এক কাজিন জামিরুলের সঙ্গে। তবে বিভিন্ন কারণে সে বিয়ে টেকেনি।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি জামিরুল আবারও তিন্নির মেঝ বোনকে ঘরে তুলতে চায়। তবে এ বিষয়ে তিন্নিদের আপত্তি থাকায় উভয়পক্ষে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকেও জামিরুল ও তার অন্য সঙ্গীরা এসে তাদের বাসায় হামলা চালায়। এর দু’ঘণ্টা পর জামিরুল আবারও ওই বাসায় আসে এবং তিন্নি বোন ও মাকে নিচের ঘরে আটকে রেখে দোতলায় তিন্নির ঘরে ঢোকে। সেখানে আপত্তিকর আচরণ করার পর জামিরুল চলে যায়। এরপর থেকেই ঘরের দরজা বন্ধ ছিল তিন্নির।

তাদের প্রতিবেশীরা জানান, রাত বারোটার দিকে দোতলায় তিন্নিকে ডাকতে গেলে ভেতর থেকে ছিটকানি দেওয়া দেখতে পান তিন্নির মা ও বড়বোন। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর ভেতর থেকে কোনও উত্তর না পেয়ে ছিটকানি ভেঙে তারা কক্ষে প্রবেশ করে তিন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তারা।

শৈলকুপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মহসিন জানান, ‘রাত সাড়ে বারোটার দিকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায় তার পরিবার। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা ভিক্টিমকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি আমরা। নিহতের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে বিষয়টি খোলা হবে। এর আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের মামলার ৮ আসামির মধ্যে শুক্রবার রাতে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) মহসিন হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পড়ালেখা শেষ করা মেধাবী ছাত্রী তিন্নির মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৫-৬ জনের নামে শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার আইনে মামলা হয়েছে। তিন্নির মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। পরে তারা অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এখনও পলাতক রয়েছে মুল অভিযুক্ত জামিরুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তার আসল রহস্য বলা যাবে।  

তিন্নির মৃত্যুর ঘটনা শুনে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন। এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অধিকতর তদন্তের দাবি জানান।