ঝিনাইদহের শৈলকুপার ইবি’র প্রাক্তন ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নি’র মৃত্যুরহস্য এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি। তবে ঘটনাটি পরিবার সংক্রান্ত এবং তার মেজো বোন মুন্নি এবং তার সাবেক স্বামী জামিরুলের কলহ ও বিবাদ এ মৃত্যুর ঘটনায় প্রভাব ফেলেছে বলেই দাবি করেছেন তিন্নির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তিন্নির মৃত্যুর ঘটনায় তার বোন এবং মা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তার বড় দুলাভাই এ ঘটনার জন্য জামিরুলকে দায়ী করেছেন। জামিরুল তার ঘরে ঢুকে লুকিয়ে ছিল সন্দেহ থেকে এমন দাবি করেছেন তিনি। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে মামলার আসামি হলেও তিন্নির মৃত্যুর ঘটনায় জামিরুল বা অভিযুক্তদের কেউ দায়ী নয় বলে দাবি করেছে জামিরুলের পরিবার। আর আসামি খোঁজার পাশাপাশি থানা কর্তৃপক্ষ তাকিয়ে আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। তবে রবিবার দিনভর তিন্নির বাড়ি ঘুরে ও আশেপাশে অনেকের সঙ্গে কথা বলে হত্যার স্বীকার হয়েছেন, নাকি আত্মহত্যা করেছেন, করলে আত্মহত্যায় কেউ প্ররোচিত করেছে কিনা, কিছুই বোঝা যায়নি। শুধু জানা গেছে, ওইদিন জামিরুলরা দল বেঁধে তাদের বাসায় এসেছিল, এরপর মুন্নি ও তার মায়ের সঙ্গে খুব তর্ক ও কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সে সময় এই ঝগড়ায় পরিবারের মানসম্মান যাচ্ছে এটা বলে তিন্নি চেঁচিয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজ বাসার দোতলার ঘরে তিন্নির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন তার মা ও মেজো বোন। শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত হলেও সে প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
রবিবার তিন্নিদের বাড়ির এলাকা ঘুরে জানা গেছে, অত্যন্ত শান্ত ও হাসিখুশি স্বভাবের মেয়ে ছিল তিন্নি। এলাকার সবাই তাকে খুব পছন্দ ও স্নেহ করতো। লেখাপড়ার দিকেই তার মনোযোগ ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, তিন্নি মেয়েটি অনেক ভালো ছিলেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি সাবজেক্টে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি তাদের কাছেও রহস্যজনক মনে হয়েছে।
এলাকার অনেকেই বলেন, তার মেজো বোনের দাম্পত্য কলহের কারণে তিন্নি খুবই অশান্তিতে ছিলেন। এ ঘটনার কারণেই হয়তো তিনি মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা একজন তরুণী কেন সমস্যার সমাধান না করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে পারেননি তারা। তবে সেদিন তিন্নির ওপরে বাইরের কারও হামলা বা নির্যাতনের ঘটনার কথা বা তিন্নির কোনও চিৎকার শোনেননি তারা।
সরেজমিন জানা গেছে, তিন্নিরা তিন বোন। তাদের কোনও ভাই নেই। বাবা মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী এক বছর আগে মারা গেছেন। তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শেখপাড়া এলাকায় নিজেদের দোতলা বাড়িতে থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামে । তিন বোনের মধ্যে অবিবাহিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য অনার্স শেষ করা তিন্নি। তার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে অনেক আগে। ২০০৮ সালে এইচএসসি পড়া অবস্থায় উভয় পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে ফুপাতো ভাই জামিরুলের সঙ্গে বিয়ে হয় মেজো বোন মুন্নির। তবে এতে আন্তরিক সায় ছিল না মুন্নির। মুন্নি ও জামিরুলের নানা বিষয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো। তাদের ঘরে জুনাইরা নামের ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তানও আছে।
জামিরুলের পরিবারের এক সদস্যের দাবি, ২০১৬ সালে জামিরুলের শ্বশুর ইউসুফ আলী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। বড় জামাই বাইরে থাকায় এবং তিন্নিদের বাড়িতে আর কোনও পুরুষ সদস্য না থাকায় তিন বছর ধরে জামিরুল তার শ্বশুরকে ডাক্তার দেখানো থেকে বাথরুম করানো পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা শুশ্রূষা করেন। তবে জামিরুল ও মুন্নির মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য থামেনি। ২০১৯ সালের ৫ মার্চ জামিরুলের শ্বশুর মারা যান। সে বছরেরই ২ আগস্ট মুন্নি জামিরুলকে ডিভোর্স লেটার পাঠান। কিন্তু জামিরুল সেটি গ্রহণ করেননি। বরং এর কারণ জানার চেষ্টা চালান জামিরুল ও তার পরিবার। তবে এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই ঘোষণা দেন মুন্নি। এতে সমর্থন করেন তার মা।
একটি সূত্র জানিয়েছে, তিন্নির বোন মুন্নি তার স্বামী জামিরুলকে তালাক দেওয়ার পরও সেটি না মেনে জামিরুলের ওই পরিবারে অনুপ্রবেশ এবং সাবেক স্ত্রীর ওপর জোর খাটানোর চেষ্টা ছিল গত এক বছর ধরেই। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন মুন্নি। জামিরুল পথে-ঘাটে তাকে বিরক্ত করতেন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় ত্রিবেণী ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগও দিয়েছিলেন স্কুলশিক্ষক মুন্নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ বিষয়ে সালিশ করা হলে সে বৈঠকে উপস্থিত হননি জামিরুল। তবে ইউনিয়ন পরিষদ এমন কিছু আবার শুনলে জামিরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায়। এরপরও সারাক্ষণই মুন্নির পিছু নিতেন তিনি। তালাক না মেনে তাকে আবার ঘরে তোলার প্রস্তাব দিয়েই যাচ্ছিলেন তিনি। এদিকে মুন্নি সম্প্রতি রাজু নামে এক যুবককে পছন্দ করছেন এমন সংবাদে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন জামিরুল। সাবেক স্ত্রী যে কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারেন এটা মানতে মোটেই রাজি নন তিনি। বরং তার সন্তানের দিকে চেয়ে হলেও স্ত্রীকে ফেরাতে চাইছিলেন। তবে এতে রাজি ছিলেন না মুন্নি।
জামিরুলের পরিবারের দাবি, ছোট বোন তিন্নি মেজো বোন মুন্নির এ সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি। বোনের সংসারে ছোট একটি বাচ্চা থাকার কারণে সে চেয়েছিল উভয়ের মধ্যে মিটমাট হোক। এজন্য বার কয়েক চেষ্টাও করে সে। আর জামিরুল ফুপাতো ভাই হওয়ায় ওই পরিবারের সঙ্গে তিন্নির ভালো যোগাযোগ বরাবরই ছিল। জামিরুলও প্রায়ই তিন্নিকে ফোন করতো মুন্নির সঙ্গে কথা বলার জন্য। মাঝে মধ্যে তিন্নি মোবাইল ফোনে তার বোন মুন্নি’র সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতো।
জামিরুলের পরিবারের আরও দাবি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় মুন্নি ও তার মা তিন্নিকে বিভিন্ন সময় বকাবকি করতো। তবে মুন্নি ও তার মা কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিন্নির ভূমিকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জামিরুলের পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনার দিনে রাজু আহমেদ নামে এক ব্যক্তি এসেছিলেন তিন্নিদের বাড়িতে। জামিরুলের ধারণা হয়, রাজু তার সাবেক স্ত্রী মুন্নিকে বিয়ে করেছে বা করতে চায়। তাই এ খবর শুনে দল ভারি করে ছুটে আসেন জামিরুল। তবে রাজুকে পাননি তারা। এরপর রাজু আসার কৈফিয়ত তলব করেন জামিরুল। এদিকে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরও এ বাসায় জামিরুলের আসার ঘটনায় এবং কেন তাকে কৈফিয়ত দিতে হবে এসব নিয়ে তার সঙ্গে ভীষণ তর্ক শুরু হয় সাবেক স্ত্রী মুন্নি ও তার মায়ের। সে তর্কযুদ্ধ চলতে থাকে দফায় দফায়। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন তিন্নি। এই ঘটনা ও চিৎকার চেঁচামেচিতে সমাজে সম্মান নষ্ট হচ্ছে, বাইরের লোক কী ভাববে এমন কথা তিন্নি বলতে থাকেন বারবার। এরপর তিনি দোতলায় নিজের ঘরে উঠে যান।
প্রতিবেশীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন জামিরুল তার কয়েকজন লোক নিয়ে ওই বাড়িতে আসে তখন ওই বাসায় খুব হইচই হতে থাকে। একপক্ষ বাসার বাইরে আর মুন্নি ও তার মা বাসার ভেতরে থেকে রাগী কণ্ঠে তর্ক করছিল। এসময় তিন্নি বেশ কয়েকবার চিৎকার করে উভয়পক্ষকে থামতে বলে। এক পর্যায়ে তিন্নিকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এসব করে সমাজে আমার মানসম্মান নষ্ট করে দিলে। আমি কীভাবে বাইরে বের হবো? মানুষ কী বলবে? আমি এ জীবন আর রাখবো না।’
দফায় দফায় এই চেঁচামেচি চলার পর জামিরুলরা ফিরে গেলে রাত ১২টার দিকে দোতলার ঘরে তিন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তার বোন ও মা। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ওই হাসপাতালে পরদিন তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা একজন তরুণী আত্মহত্যা করতে পারেন এটাও যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউ। এর পেছনে অন্য কোনও ঘটনা আছে কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ চলছেই। ওই বাসায় আসা রাজু সত্যিই বের হয়ে গিয়েছিলেন কিনা, তার দ্বারা বাসায় কোনও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল কিনা এটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিবেশীদের একজন। তবে রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে আগের বর্ণনার বিপরীতে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রয়াত তিন্নির বড় দুলাভাই লাফস গ্যাস কোম্পানির সিনিয়র রিজিওনাল সেলস্ এক্সিকিউটিভ আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, ‘ঘটনার দিন তিনি ওই বাড়িতে ছিলেন না। তবে সব কথাই পরিবারের কাছ থেকে শুনেছেন।’
তার দাবি, ‘তিনি জানতে পেরেছেন, তার বড় শ্যালিকার (মুন্নি) প্রাক্তন স্বামী জামিরুলসহ বেশ কয়েকজন রাত ৮টার দিকে তিন্নিদের বাড়িতে আসে। সে সময় নিচের গেট খোলা ছিল। তারা ওপরে উঠে গোলযোগ করে চলে যায়। এর কোনও এক সুযোগে জামিরুল নাকি তিন্নি’র রুমের খাটের নিচে ছিল। পরে রাত ১০টার অন্যরা আবারও তিন্নিদের বাড়িতে এসে গোলযোগ করে এবং বাড়ির সিঁড়ির কাচ ভেঙে পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও ধারণা করেন, ‘খাটের নিচে জামিরুল লুকিয়ে ছিল। এ সময় অন্যরা বাইরে ছিল। মূলত সে মুন্নিকে অ্যাটাক করার জন্য খুঁজছিল। যখন খাটের নিচ থেকে শব্দ আসে তখন হয়তো জামিরুলকে দেখে ফেলে তিন্নি এবং এক পর্যায়ে জামিরুল চলে গেলেও সঙ্গে থাকা অন্যরা পেছনের দরজা আটকিয়ে তাকে পাশবিক নির্যাতন করতে পারে। এই নির্যাতনের শিকার হয়ে তিন্নি মধ্যে অনুশোচনা জাগে কীভাবে সে সমাজে মুখ দেখাবে। এমন কষ্ট, ঘৃণা, আত্মসম্মানহানির কারণে সে হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ায় নেওয়া হলে ডাক্তার তিন্নিকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তবে তর্ক চলার সময় খাটের নিচে জামিরুল কী করে এলো এবং তিন্নি তাকে দেখার পরও বের হতে বলেনি কেন বা কী করেছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি। আবার ঝামেলা অন্য বোনের সঙ্গে হলে তিন্নি কেন নির্যাতনের শিকার হবেন সেটার জবাবে তিনি বলেন, আমি তো ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই বলতে পারবো না। তবে এটা আমার ধারণা।
পুরো এই গোলমেলে বিষয়ের উত্তর জানতে তিন্নিদের বাড়ির সামনে গিয়ে তার বোন মুন্নি’র সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে কোনও কথা বলতে চাননি। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোনে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলার পর ‘কথা বলার পরিবেশ নেই’ বলে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় চলে যান।
তিন্নির মা হালিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে জানানো হয় তিনি অসুস্থ, কথা বলতে পারবেন না। পরিবারটিতে আর কোনও পুরুষ সদস্য না থাকায় আর কারও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, আসামি হয়ে ফেরার হলেও জামিরুল ইসলামের পক্ষে বলেছেন শেখপাড়া গ্রামের বয়স্ক দোকানি আয়ুব হোসেন, একই এলাকার যুবক রাফিউল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি। তারা বলেন, জামিরুল একজন শিক্ষিত ছেলে। তিনি বিএ পাস করে ডেন্টালের একটি কোর্স করে জেস্ট ফার্মেসিতে বসে দাঁতের চিকিৎসা দিতেন। তার স্ত্রী সম্পর্কে কেউ খারাপ মন্তব্য করলে তিনি ওই ব্যক্তির ওপর ক্ষেপে যেতেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তিনি তার শ্যালিকাকে নির্যাতন করে হত্যা করতে পারেন এটা আমরা বিশ্বাস করি না।
এদিকে ত্রিবেণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক খান জানান, তিন্নির বড় বোন মুন্নি তার স্বামী জামিরুলকে বেশ কিছুদিন আগে ডিভোর্স দেয়। ডিভোর্স দেওয়ার পর রাস্তা-ঘাটে তাকে বিরক্ত করতো জামিরুল। এ বিষয়ে মুন্নি ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দেয়। আমি অভিযোগ পেয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ করি। কিন্তু বিচারের দিন জামিরুলরা কেউ আসেনি। তবে রাস্তা-ঘাটে বিরক্ত করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে আমি তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) মহাসিন হোসেন জানান, তিন্নির মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জনের নামে শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং আত্মহত্যা প্ররোচনার আইনে মামলা হয়েছে। তিন্নির মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ শেখপাড়া গ্রামের কনুর উদ্দিনের ছেলে আমিরুল, নজরুল, লাবিব ও তন্ময়কে গ্রেফতার করেছে। এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি জামিরুল পলাতক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে তিন্নিকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যাবে।