হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মো. কুতুবুর রহমান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের একটি টিম বৃহস্পতিবার সকালে জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী কালেঙ্গা ফরেস্টের ত্রিপুরা পল্লীর ছনবাড়ি বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেফতার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছে সে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বিবস্ত্র করে এক নারীকে যৌন নির্যাতন ও তারি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় পুরো দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মামলার দুই আসামি স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ এবং তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকার পুলিশ ফাঁড়ির গলি থেকে নির্যাতন মামলার সহযোগী আসামি বাদলকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১ এর সদস্যরা। অস্ত্র মামলায় দেলোয়ার পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার একলাশপুর ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় ওই নারীকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। এতে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও আবদুর রহিমসহ পাঁচ জন অংশ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার ৩২ দিন পর গত ৪ অক্টোবর (রবিবার) দুপুরে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়। ১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, নির্যাতনকারীরা ওই গৃহবধূর পোশাক কেড়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে তাকে কিছু বলতে থাকে। ওই নারী নিজেকে রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং হামলাকারীদের ‘বাবা’ বলেও ডাকেন। এক পর্যায়ে তাদের পায়েও ধরেন। কিন্তু তারা ভিডিও ধারণ বন্ধ করেনি। বরং হামলাকারীদের একজন তার মুখমণ্ডলে লাথি মারে ও পা দিয়ে মুখসহ শরীর মাড়িয়ে দেয়। এরপর একটা লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকে। এ সময় ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার উল্লাস প্রকাশ করে ‘ফেসবুক’ ‘ফেসবুক’ বলে চেঁচায় তাদের মধ্যে আরেকজন।