বগুড়ার সান্তাহারে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাইমাবগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে ফাইমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বুধবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সান্তাহার পৌর এলাকার ইয়ার্ড কলোনির আকে বাড়ি থেকে কম্বল দিয়ে ঢাকা তার পচন ধরা লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

বিকালে নিহতের ভাই ফারুক শেখ আদমদীঘি থানায় ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহে স্বামী ২-৩ দিন আগে তাকে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এরপর বিছানায় লাশ রেখে কম্বল দিয়ে ঢেকে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া গ্রামের আরমান শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম প্রায় দু’বছর আগে সান্তাহার ইয়ার্ড কলোনির মৃত আইনাল হকের মেয়ে ফাইমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সাইফুল শ্বশুর বাড়ির একটি ঘরে বসবাস করতেন। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। এক বছর পর তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে গত তিন মাস আগে তারা আবারও বিয়ে করেন। এরপর থেকে সাইফুল তালাক দেওয়ার সময় পরিশোধ করা মোহরানা ও ধার নেওয়া টাকা ফেরত দিতে ফাইমাকে চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও কলহের সৃষ্টি হয়।

ফাইমার স্বজনদের আহাজারিবুধবার সকালে প্রতিবেশী রেবা খাতুন ঘরে তালা ও ভিতর থেকে পচা দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি ফাইমার বড় বোন রোজিনা বেগমকে অবহিত করেন। তারা ঘরের তালা ভেঙে বিছনায় কম্বল দিয়ে ঢাকা ও গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ফাইমার লাশ দেখতে পান।

খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর থেকে স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় স্বামী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।