নিহতরা হলেন, দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সৈয়দ আলীর স্ত্রী রেখা বেগম (৫০), তার ছেলে আজাউল হক (৩৫) ও নাতি সুজন মিয়া (১৩)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান রাজু জানান, সন্ধ্যার পর ছেলে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে রেখা বেগম বাড়ির পাশের জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে যান। রোপণের পর জমির আইল দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় একটি জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন রেখা বেগমসহ সঙ্গে থাকা ছেলে ও নাতি। পরে আশপাশের লোকজন তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপর দিয়ে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলন্ত তারে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নেয় প্রতিবেশীরা। কয়েকদিন আগে বাঁশের খুঁটি ভেঙে জমিতে বিদ্যুতের তার পড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি জানা না থাকায় সেই তারে জড়িয়ে মা ও ছেলেসহ একই পরিবারের তিন জনের এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, খুঁটি ভেঙে বিদ্যুতের তার জমিতে পড়ে থাকলেও মেরামত করেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বিষয়টি স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজনকে জানালেও খুঁটি ও তার সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিন জনের প্রাণ হারানোর ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন তারা।
এ বিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সুন্দরগঞ্জ জোনাল অফিসের কর্মরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনাস্থলে থাকা এস আই মো. শামসুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তিন জনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতদের লাশ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
একসঙ্গে তিন জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।