চুরি যাওয়া সিন্দুক উদ্ধারের পর মিললো পৌনে ৬ লাখ টাকা

সেই সিন্দুক

অবশেষে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া লোহার সিন্দুক। পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়ে যাওয়ায় সিন্দুক ভাঙতে পারেনি চোরের দল। পরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেই সিন্দুক ভেঙে দেখা গেছে উত্তরাধিকারীর জন্য এর ভেতরে ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমিয়ে রেখেছেন প্রয়াত মালিক। আর ভেতরে সাজিয়ে রাখা আছে সম্পত্তির যাবতীয় দলিল। দলিলগুলো বর্তমান মালিকের হাতে এবং টাকাগুলো আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) জামালপুরের বকশীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে ময়েজ উদ্দিনের ছেলে কফিল উদ্দিনের ঘর থেকে প্রায় ৮ মণ ওজনের একটি লোহার সিন্দুক চুরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন কফিল উদ্দিন। বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট খবর পেয়ে এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। পুলিশ লোহার সিন্দুকটি উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এ ঘটনায় চোর সন্দেহে বিভিন্ন স্থান থেকে ৮ ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

সিন্দুক ভেঙে পাওয়া যায় দলিল, মূল্যবান অন্য সামগ্রী ও টাকা। ছবিতে ইউএনওর উপস্থিতিতে সিন্দুকে পাওয়া টাকা গোনা হচ্ছে।

আটককৃতরা হলেন দড়িপাড়া গ্রামের নুরুল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া, ফকির মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া, ফকির আলীর ছেলে হেবুল মিয়া, ধুন মিয়ার ছেলে সাহিদিন, মমতাজ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, আবুলের ছেলে রমজান আলী, শুকুর আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন ও হাবিবুর রহমানের ছেলে রুবেল মিয়া।

বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট ও মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর মঙ্গলবার রাতে দড়িপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। বুধবার সকালে দড়িপাড়া গ্রামের সুরুজ্জামানের পরিত্যক্ত ঘরে সেই সিন্দুকের খোঁজ মেলে। সিন্দুকটি উদ্ধারের পর সকাল ১০ টার দিকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনমুন জাহান লিজা ও সিন্দুকের মালিক কফিল উদ্দিনের উপস্থিতিতে সিন্দুকটি খোলা হয়।

আটক আট চোর

এ সময় সিন্দুকের ভেতর থেকে নগদ ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সাথে পাওয়া যায় জমির বিভিন্ন দলিলপত্র।

বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিন্দুকটি উদ্ধারের পর জমির দলিলগুলো মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং নগদ টাকাগুলো জব্দ করা হয়েছে। নগদ টাকা গুলো আদালতের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।