২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের হকার উচ্ছেদ নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে আলোচনায় ছিলেন নিয়াজুল ইসলাম খান। তার এই ছবি গণমাধ্যমে সেসময়ে ভাইরাল হয়, এ কারণে প্রতিপক্ষের হাতে নাস্তানাবুদও হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় দায়ের মামলায় পুলিশ তার কোনও ‘দোষ’ খুঁজে পায়নি। এবার তিনি সেই ঘটনায় আদালতে পাল্টা মামলা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলর ও ঠিকাদারসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়েরের পর বিচারক তা আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসিকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, সোমবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত এ নির্দেশ দেন (মামলা নং ২০/১২/২০)। একইসঙ্গে আগামী ২০২১ সালের ২২ মার্চ মামলাটির পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। রবিবার (২০ ডিসেম্বর) অভিযোগটি আদালতে জমা দিয়েছিলেন নিয়াজুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার উচ্ছেদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসার সময় নিয়াজুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ । এ ঘটনায় প্রায় ৩ বছর পর রবিবার আদালতে নিয়াজুল ইসলাম খান ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক ফাহমিদা খাতুন মামলাটি আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসিকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ঠিকাদার আবু সুফিয়ান, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা মাকসুদুল আলম খোরশেদ, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন, হান্নান সরকার, মেয়র আইভীর ছোট ভাই আলী রেজা উজ্জল, মেয়র আইভীর ভাগিনা মিনাজুল কাদির মিমন, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার কামরুল হুদা বাবু, হাজী নেওয়াজ, সৈকত মেম্বার, মোতালেব, ফারুক, লিপু, আমিনুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা সরকার আলম।
গণমাধ্যমে সে সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন, পুলিশের ওই সময়ের বক্তব্য, ভুক্তভোগী ও মেয়র আইভীর বক্তব্য ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এমপি শামীম ওসমান সমর্থক ও হকারদের সঙ্গে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় নিয়াজুল পিস্তল নিয়ে মেয়র ও তার অনুসারীদের দিকে হামলার চেষ্টা চালান। তবে তাকে ধাওয়া দিয়ে প্রতিপক্ষ ধরে ফেললে গণপিটুনির শিকার হন তিনি। ওই ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর আদালতে এ মামলা হলো।
২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি শহরে শামীম ওসমান সমর্থক ও হকারদের সঙ্গে মেয়র আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেয়র আইভী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ শতাধিক আহত হন। মেয়র এ ব্যাপারে আদালতে শামীম ওসমান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ তদন্ত করে এ ঘটনায় এমপি শামীম ওসমানের পক্ষে রিপোর্ট দেয়।
বর্তমান মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র আইভী বলেন, প্রশাসন এখানে এক পক্ষের হয়ে কাজ করছে। যারা এ ঘটনায় হামলার শিকার হলো, আহত হলো মামলায় তাদেরকেই আসামি করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত আগের সংবাদ:
হকার ইস্যুতে শামীম ওসমান ও আইভীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, গুলি ও টিয়ারশেল
না.গঞ্জে পিস্তল হাতে কে এই নিয়াজুল?