মাস্টার্সে ‘উদ্দেশ্যমূলক ফল বিপর্যয়ের’ অভিযোগ বিভাগীয় সভাপতির বিরুদ্ধে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত ফল পুনর্নিরীক্ষণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ১০ শিক্ষার্থী। এসময় বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে  প্রভাব খাটিয়ে ‘উদ্দেশ্যমূলক ফল বিপর্যয়’ ঘটানোর দাবি তোলেন তারা। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আমতলায় সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। এর আগে একই দাবিতে গত ৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরারবর অভিযোগ পত্র দেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্নাতকের সঙ্গে স্নাতকোত্তরের ফলে আকাশ পাতাল ব্যবধান দেখলেই বোঝা যায় ফল কতটা প্রভাবিত হয়েছে। ফলাফলে ২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনার্সে ২১তম হওয়া শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তরে প্রথম হওয়াটা প্রস্তুতিসহ সব কিছুর বিচারে তাদের যেমন অবাক করেছে তেমনই যথেষ্ট পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পাওয়ায় তাদের অনেকেই উদ্বিগ্ন। এ কারণে পুরো পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণেরর জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তুলেছেন তারা। এসময় বিশ্বাবিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য তাদের বক্তব্য শুনে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলেও এখনও এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভাগের প্রথম ব্যাচের ২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতকে ১১জন সিজিপিএ ৩.৫ বা এর বেশি অর্জন করি। কিন্তু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন সভাপতি হওয়ার পর থেকে তার পক্ষপাতিত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, পরীক্ষার ক্ষেত্রে দায়িত্ব অবহেলার কারণে স্নাতকোত্তরের ফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রকাশিত ফলাফলে সিজিপিএ ৩.৫ বা এর ওপরে পাওয়া তিন শিক্ষার্থীই সভাপতির ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়।

প্রসঙ্গত, ৩.৫৩ পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীর স্নাতকে মেধাক্রম ছিল ২১তম। যেখানে ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯। অন্যদিকে অনার্সে ৩.৮২ পেয়ে একই বিভাগের মোস্তাকিম বিল্লাহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হলেও মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ৩.৪৭। 

শিক্ষার্থীরা লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, মাস্টার্সের নন-থিসিস গ্রুপের আটটি কোর্সের মধ্যে পাঁচটি এবং থিসিস গ্রুপের ছয়টি কোর্সের মধ্যে তিনটি কোর্সের পরীক্ষক ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। এসব কোর্সে তাদের অধিক ফল বিপর্যয় হয়েছে। এছাড়া নন থিসিস গ্রুপের চারটি কোর্সের ইন-কোর্স পরীক্ষা না নিয়েই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন,‘এখানে পক্ষপাতিত্ব কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার কিছু ঘটেনি। সবকিছু নিয়মে মধ্যে হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর তদন্তপূর্বক ফল পরিবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি।  এছাড়া গত ১০ ও ১৩ নভেম্বর যথাক্রমে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান’র সঙ্গে আমরা সাক্ষাৎ করি। এসময় তারা অনিয়ম এবং অনৈতিক উদ্দেশ্যে ফলাফল বিপর্যয় ঘটানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।  কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। বরং তদন্ত কমিটি গঠন না করে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীকে সহযোগিতা করছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কল ধরেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বিষয়ের বিরুদ্ধে নয়। তাদের অভিযোগের ধরনটি আমলে নিলে পুরো পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে যায়। এক্ষেত্রে উপাচার্য কিংবা আমাদের কিছু করার নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, শাকিরুল ইসলাম, মাহমুদা মিতুল, নাঈমা আক্তার, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবুল হাসান, মোস্তাকিম খান ও সুলতান কবির উপস্থিত ছিলেন।