অ্যাম্বুলেন্সের চাকা ঘোরে না, ওষুধও থাকে না!

 রাজশাহী মহানগরীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর দ্বারা পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে এমর আশাতেই যান রোগীরা। রোগী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, কিন্তু রোগী ভর্তির পর পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে ডাক্তার ও নার্সদের আচরণও অপ্রত্যাশিত। এখান থেকে কোনও ওষুধ দেওয়া হয় না। অ্যাম্বুলেন্স আছে তাও অকেজো। 
জানা গেছে, এখানে হাতে গোনা কিছু পরীক্ষা করানো হয়। বেশিরভাগ পরীক্ষা করানো হয় বাইরে। তাও চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বলেন। তাদের বলে দেওয়া জায়গায় পরীক্ষা না করালে রোগীদের অবহেলা করা হয়। অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের রুমের বাইরে এসে বসে থাকেন। তাদের কোম্পানির ওষুধ না নিয়ে অন্য কোম্পানির ওষুধ কিনলেও চিকিৎসকদের বাজে মন্তব্য শুনতে হয়। এসব কারণে অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার পরেও এখানে চিকিৎসা না নিয়েই চলে যান।
এক রোগীর স্বজন রাজু আহমেদ জানান, তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। কম খরচে সেবা  নিতে তার স্ত্রীকে এখানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু তিনি যা ধারণা করেছিলেন, এখানে এসে তার বিপরীত চিত্র দেখতে হয়েছে। অপারেশনের সময় ছাড়া কোনও ডাক্তার বা নার্স তাদের খোঁজ নেননি। তাদের বলে দেওয়া জায়গা থেকেই পরীক্ষা-নিরিক্ষা করাতে হয়েছে। ওষুধ কিনতে হয়েছে। এমনকি পরিবহন সুবিধাও তিনি পাননি। এছাড়া সব সময় এখানে ডাক্তারও থাকেন না। সেই সময় রোগীদের বেশি সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। 
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. শারমিন জানান, সরকারি সেবা কেন্দ্র হিসেবে এখানে রোগীদের যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে আগে সিজারিয়ান রোগীদের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা থাকলেও গত দুই বছর থেকে আর সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু প্রাথমিক ওষুধগুলো সরবরাহ করা হয়। এ সময় রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে চাননি তিনি। 
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডা. নাসিম আখতার জানান, এই প্রতিষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্সের কোনও লোকেশন ছিল না। একটা বিশেষ অনুরোধে জয়পুর থেকে এখানে আনা হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্স আনা হলেও এটার জন্য কোনও ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছুদিন একটা ড্রাইভার ছিল। তাকে দিয়েই চালানো হচ্ছিল। তিনি অবসরে গেলে এখন অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে আছে। 
ওষুধের বিষয়ে তিনি জানান, ওখানে কিছু গভর্মেন্ট সাপ্লাই থাকে। আর কিছু কেনাকাটার বিষয় থাকে। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে। কারণ গভর্মেন্ট সিস্টেমে আগের চেয়ে ওষুধ কেনায় কড়াকড়ি হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ওষুধ এসে যাবে। 
তিনি আরও জানান, এখানে কিছু টেস্ট আছে। আর কিছু বাইরে থেকে করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে টেস্ট করাতে বলা হয়- এমনটা নয়। এছাড়া রোগীরা কোনও অভিযোগ করলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। এ পর্যন্ত কোনও রোগী তাদের কাছে কোনও অভিযোগ করেনি।