সমর্থন দেখাতে চেয়ারম্যান ও প্রার্থীদের খিচুড়ি ভোজ

ঢাকার ধামরাইয়ে শুরু হয়ে গেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আমেজ। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজিত সভা কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা মিছিল নিয়ে শো ডাউন করছেন। স্থানীয় এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সামনে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে ব্যস্ত তারা। লাখ লাখ টাকা খরচ করে জনসমর্থন দেখানোর জন্য আয়োজন করেছেন খিচুড়ি ভোজের।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ধামরাইয়ে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়ীয়া ভোলানাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষীকি উপলক্ষে যৌথ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। 

খিচুড়ি ভোজ

সভাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থেকে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের সভাস্থল পর্যন্ত  সড়কে  ওপর বসানো হয়েছে তড়োন। অন্তত ৭/৮জন প্রার্থীরা তাদের সমর্থক নিয়ে শো ডাউন করেন। জনসমুদ্রে পরিণত করা এসব মিছিলে অধিকাংশই শিশু-কিশোর। তবে জনসমর্থন দেখাতে সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছেন গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা ।

কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সভাস্থল থেকে কিছু দূরে আয়োজন করেছেন বিশাল খিচুড়ি ভোজের। এমন বিশাল ভুরিভোজের আয়োজন করতে দেখা গেছে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ মোল্লা। 

ধামরাই থানা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন,  ‘যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা লোকজন দেখাতে এই আয়োজন করেছেন। তিনি নিজেও কাদের চেয়ারম্যানের পক্ষে বারবারিয়া হাটে গতকাল থাইকা রান্না করেছেন। তারা ৮ হাজার লোক খাইয়েছেন। জুমার নামাজের পর থাইকা অনেক মানুষ খাইছে। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যায়ে দুইটি বড় গরু কেনার পর এই আয়োজন করা হয়।’

বাবুর্চি লাভলু মিয়া বলেন, ‘৮০০ কেজি চাল, ৫০০ কেজি মাংস দিয়া ভুনা খিচুড়ি রান্না করা হয়েছে ৬০ ডেক।  প্রায় ৩০ জন লোক দিয়ে গতকাল বিকাল থেকে রান্নাবান্নার কাজ করানো হয়েছে। এখন মিছিলে আসা মানুষজনরে খাওয়াইতাছি।’

খিচুড়ি ভোজ

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, ‘গরু দিয়া খিচুড়ি খাওয়ায় তারা মানুষ ভিড়াইছে। রানিং চেয়ারম্যান, আরেকজন আমজাদে। এত মানুষ ডাইকা নিয়া তার খরচ করাটা ঠিক হইছে? আমরা যারা অনেক দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি তারা যোগ্য মানুষ মনোনয়ন পাক সেটা চাই। খিচুড়ি খাইয়া আমরা ভুলুম না। এলাকার মাইনসেও তাই চায়।’

তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ মোল্লা বলেন, ‘৫ হাজার মানুষ খাইছে। আমি গরু দিয়া খাওয়াই নাই। ৯০০ কেজি মুরগি আর চাল ছিল ৬০০ কেজি। ইনশাল্লাহ আমি মনোনয়ন পাবো।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাদের মোল্লা বলেন,  ‘মানুষরে দাওয়াত দিলে তো খাওয়াইতে হয়।’

খরচ কত হয়েছে এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে তিনি বলেন, ‘ওই রকম না। খিচুড়ি খাওয়াইতে যা যায়।’