১০ কিলোমিটার ম্যারাথনে বড়দের সঙ্গে অংশ নেয় আট বছরের শিশু ওহিদুজ্জামান অভি। তাও আবার খালি পায়ে নির্ধারিত ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সে। দর্শকদের অবাক করে অসম্ভবকে সম্ভব করলো এই শিশুটি। শিশু অভির বাবা ও বোনও এই ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথন আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষের নজরে গুরুত্ব না পেলেও তার অংশগ্রহণ মন কেড়েছে দর্শকসারির হাজারো জনতার।
শিশু অভি ঢাকার কল্যাণপুর এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে। সে মদিনাতুল উলুম মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সখীপুর-বাসাইল রানার গ্রুপের আয়োজনে, বাংলাদেশ বিডি রানার গ্রুপের সহায়তায় ও ডেসকো বোর্ডের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদের পৃষ্টপোষকতায় সখীপুরে হাফ ও মিনি ম্যারাথনের এ আয়োজন করা হয়।
হাফ ম্যারাথনে নির্ধারিত দূরত্ব ছিল ২১ কিলোমিটার এবং মিনি ম্যারাথনে ছিল ১০ কিলোমিটার। এ ম্যারাথনে অংশ নিতে মফিজুল ইসলাম, তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মাফিয়া ইসলাম উর্মি এবং ছেলে ওহিদুজ্জামান অভি রেজিস্ট্রেশন করেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সখীপুরের তৈলধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ম্যারাথন শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এ ম্যারাথনে তিন শতাধিক নারী ও পুরুষ দৌড়বিদ স্পোর্টস ড্রেসে সজ্জিত হয়ে অংশ নিলেও শিশু অভি ছিল সাধারণ পোশাকে। সবার ছোট ও সাধারণ পোশাকে থাকায় দর্শকদের নজর ছিল তার দিকেই। এ ম্যারাথন দৌড় ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মুহূর্তের মধ্যে সামনের দৌড়বিদদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেও সামান্য ক্লান্তি আবার তাদের পেছনে টেনে আনে। এভাবেই পুরো দৈর্ঘ্য অতিক্রম করতে জমে ওঠে খেলা। এমনই এগুনোর-পেছানোর লুকোচুরির মধ্য দিয়েই এ ম্যারাথনের চূড়ান্ত পর্ব শেষ হয়। এর মধ্যে বড় দৌড়বিদদের দমের সঙ্গে হার মানেনি শিশু অভির দম। সেও স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে ফিনিসিং পয়েন্টের শেষ রেখা অতিক্রম করেই তার দৌড় শেষ করে। ছোট্ট ও সম্ভাবনাময় এই শিশু এ ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় না হতে পারলেও শিরোপা জেতার অদম্য লড়াই চালিয়ে গেছে অভি।
তবে এ প্রতিযোগিতায় মিনি ম্যারাথনে অভিরবোন মাফিয়া ইসলাম উর্মি নারী ইভেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করে। অভি এই প্রতিযোগিতায় পুরস্কার না পেলেও সম্প্রতি ফরিদপুরের রাজবাড়িতে অনুষ্ঠিত ছয় কিলোমিটার ম্যারাথনে পুরস্কৃত হয়। তার বাবা মফিজুল ইসলাম ইতোপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে ম্যারাথনে অংশ নিয়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।
শিশু ওহিদুজ্জামান অভি বলে, ‘আমার বাবাও একজন অ্যাথলেট। তার অনুপ্রেরণায় আমিও বিভিন্ন ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করি। আমি একজন দেশসেরা দৌড়বিদ হতে চাই।’
অভির বাবা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমি বিভিন্ন ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছি। এর আগে ঢাকা ম্যারাথন, শাহিন কলেজ হাফ, বঙ্গবন্ধু ম্যারাথন ও ঢাকা নেক্সট ম্যারাথনে অংশ নিয়ে পুরস্কারও পেয়েছি। আজ সখীপুরের ম্যারাথনে আমি ও আমার মেয়ে এবং শিশু ছেলে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে আমার মেয়ে ১০ কিলোমিটার ম্যারাথনে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আমার ছেলে ও মেয়েকে রানার এক্সপার্টস বানানোর পরিকল্পনা আছে।’
ডেসকো বোর্ডের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে উৎসবমুখর করা এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনকের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এ আয়োজন করা হয়। আজকের ম্যারাথনে শিশু অভির অংশগ্রহণ এ প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। বাসাইল-সখীপুরকে বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা রাখার জন্য এ রকম আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’