‘করোনা গরিবদের ধরবে না, ওটা বড়লোকের অসুখ’

দেশ জুড়ে নতুন করে করোনার সংক্রামণ শুরু হলেও দিনাজপুরের হিলিতে মানুষের মাঝে কোনও ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মানার বালাই নেই। মানা হচ্ছে না কোনও ধরনের সামাজিক দূরত্ব, অধিকাংশ মানুষই মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না, এমনকি দোকানদাররা কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এদিকে করোনার সংক্রামণ রোধে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। 

ভ্যানচালক খালেদ হোসেন বলেন,  ‘আগে যখন মাস্ক ব্যবহারে প্রশাসনের কড়াকড়ি ছিল, তখন মাস্ক ব্যবহার করতাম। আর এখন তো সবকিছু শিথিল হয়ে গেছে আর করোনাও দেশ থেকে পালাইছে যার কারণে আর মাস্ক ব্যবহার করি না। আর করোনা আমাদের মতো গরিবদের ধরবে না, ওটা বড়লোকের অসুখ ওদের ধরবে।’

মাস্ক ছাড়াই চলছে লোকজন

উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদাড়ি ও হাকিমপুর পৌরসভার ‘নো মাস্ক নো সেল’, ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’সহ স্বাস্থ্য বিভাগের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে দিনাজপুর জেলার মধ্যে করোনার হার সবচেয়ে কম ছিল হিলিতে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব, নজরদাড়ি না করা ও মানুষজনের স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও মাস্ক ব্যবহারে অনীহার কারণে সংক্রামণের হার বাড়তে থাকে। করোনার সংক্রামণ শুরু থেকে এই পর্যন্ত হাকিমপুর উপজেলায় ৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় যা এখন পর্যন্ত জেলার মধ্যে সর্বনিন্ম পর্যায়ে রয়েছে।

বর্তমানে হাট ও বাজারগুলোতে মানুষজন কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে চলছেন। অধিকাংশ মানুষই মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না, দোকানদাররা কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। দু-একজন মাস্ক ব্যবহার করলেও তারা মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে রাখছেন, এর কারণে করোনা সংক্রামণের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মাস্ক ছাড়াই চলছে লোকজন

হিলি বাজারে পান নিয়ে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন,  ‘মাস্ক ব্যবহার করি, কিন্তু পানের বরজ থেকে দ্রুত হাট ধরতে পান নিয়ে সরাসরি হাটে চলে আসছি যার কারণে ভুল করে মাস্ক ছেড়ে চলে আসছি। তার মতো হাটে আসা অধিকাংশ মানুষেরই বক্তব্য মাস্ক আছে কেউ বা বাড়িতে ভুলে ছেড়ে এসেছেন, কেউ বা দোকানে রেখে এসেছেন, কারও বা মনে নেই, আবার কেউ কেউ গরম লাগার কারনে খুলে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।’

বাজার করতে আসা মোস্তাকিম হোসেন বলেন, আগে বাজার ঘাটে আসলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতাম কিন্তু এখন তো আর করোনা নেই যার কারনে আর মাস্ক ব্যবহার করি না। আল্লাহপাকের রহমত আছে আমাদের করোনা ধরবে না।

মাস্ক ছাড়াই চলছে লোকজন

বাজার করতে আসা আজম খান বলেন, আগে বাজারে বিভিন্ন দোকানে মাস্ক ছাড়া পণ্য বিক্রি করতেন না এবং প্রশাসনের নজরদাড়ির কারণেও মানুষজন মাস্ক ব্যবহার করতে যার কারণে হিলিতে করোনার সংক্রামণের হার অনেক কম ছিল। কিন্তু এখন তো মানুষজন কোনও কিছু মানছেন না, না মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না স্বাস্থ্যবিধি কোনোটিই পালন করছেন না। গাদাগাদি করে চলাফেরা করছেন। এতে করে বাজারে যেতেই ভয় লাগে, তাই করোনার সংক্রামণ রোধে খুব দ্রুত প্রশাসনের নজরদাড়ি বাড়ানোসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দুটিই বাড়ছে সে অনুযায়ী মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যেই আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। করোনার সংক্রামণ রোধে মাস্ক পরিধান করাসহ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার। করোনার প্রাদুর্ভাব যেন এই উপজেলায় বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে সে উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য ও মাস্ক পরিধান করার জন্য খুব দ্রুতই আইনানুগ যেসব পদ্ধতি রয়েছে সেগুলো প্রয়োগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।