রাজশাহীতে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে নগরীজুড়ে শক্ত অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। বিশেষ করে নগরীর চারটি প্রবেশপথে গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। জরুরি প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত ছাড়া এসব পয়েন্ট দিয়ে নগরীতে পরিবহন প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এতে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে প্রথমদিনের চেয়ে যান চলাচল কম ছিল। যা বিকালের পর আরও কমে যায়।
এছাড়াও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ, কৌশিক আহমেদ, জর্জ মিত্র চাকমা ও জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে পৃথকভাবে পরিচালিত চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানাসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তানোর ও মোহনপুর উপজেলাতেও ৯০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে পথচারীদের অধিকাংশকেই মাস্ক পরে যাতায়াত করতে দেখা যায়। নগরীর মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার ছাড়া প্রায় সব মুদি দোকান, কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের সমাগম ছিল কম।
দ্বিতীয় দিনেও আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। নগরীর মোড়গুলোতে অটো ও অটোরিকশা দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছিল না। অটোগুলোতে যাত্রীরা মাস্ক ব্যবহার করলেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হয়নি। গাড়ি কম থাকায় অটো চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।
রাজশাহী নগরীর প্রবেশ পথ কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় দেখা যায়, প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যেখানে জরুরি প্রয়োজন ও পণ্যবাহী অটো ছাড়া নগরীর বাইরের অটোগুলোকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
দায়িত্বরত দামকুড়া থানার এসআই জাহিদ জানান, বাইরের গাড়ি নগরীতে প্রবেশে কড়াকড়ি করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের কারণে গতবার তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এমন ক্ষতির সম্মুখিন যেন আর হতে না হয় সেজন্য তারা স্থানীয় প্রশাসনকে কিছু দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে তাদের দাবিগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আর যেহেতু সরকার অনলাইনে ব্যবসা করতে বলছে। তাই দোকান খুলেছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, দোকান সেইভাবে খোলা নেই। তবে ভেতরের দোকানগুলোর কেউ কেউ অনলাইনে বেচাকেনার জন্য হয়তো খুলেছে। তবে সেখানে ক্রেতা নেই।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনেও তাদের পরিবহনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আপতত বন্ধই রাখবেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রাজশাহীতে যথার্থভাবেই লাকডাউন পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসন শক্ত অবস্থানে আছে। আর নগরীর প্রবেশপথে কিছুটা কড়াকড়ি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের চলাচল তারা নিশ্চিত করছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম জানান, রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণভাবে দ্বিতীয় দিনের মতো লকডাউন পালিত হয়েছে। লকডাউনে তারা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতসহ যারা ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করছেন তাদের জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর আরডিএ মার্কেটের ভেতরের দোকানগুলো খোলার খবর তারা জানতে পারার পর পুলিশ পাঠিয়েছেন। সরকারি অনুমতি না থাকায় তারা দোকান খুলে ব্যবসা করতে পারবেন না। তবে অনলাইনে বেচাকেনা করতে পারবেন। এছাড়া দু-একটা খোলা থাকলেও সেগুলোতে ক্রেতা নেই।