রংপুর অঞ্চলে একদিকে প্রচণ্ড দাবদাহ অন্যদিকে বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং আর লো ভোল্টেজের কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে নগরবাসী বিভিন্ন এলাকায় গত দুদিন ধরে বিক্ষোভ করেছেন। প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে বিভাগীয় নগরী রংপুরের ১০ লাখেরও বেশি মানুষের।
নগরীর শালবন, সেন্ট্রাল রোডসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ বার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে রোজাদাররা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। শালবন এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর মানিক, শাহাবুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা নিয়ে তামাশা শুরু করেছে। যখন-তখন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে রোজাদার, বিশেষ করে তারাবি নামাজ পড়তে গিয়ে চরম দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।’
সেন্ট্রাল রোডের সিটি প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জীবন অভিযোগ করেন, বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। নগরীর লালবাগ, পার্কের মোড়, নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, ধাপ, কটকীপাড়া আর রোডসহ পুরো নগরীতে অব্যাহতভাবে লোডশেডিং চলছে। যেখানে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই সেখানে এভাবে লোডশেডিং দেওয়ার মানে হয় না। অপরদিকে সন্ধ্যার পর অব্যাহতভাবে চলছে লো ভোল্টেজের খেলা। সিলিং ফ্যান ঘোরে না বললেই চলে। এতে করে অনেক বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, টিউব লাইট বিকল হয়ে গেছে।’
সার্বিক বিষয়ে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন জানান, লোডশেডিং হচ্ছে মূলত ট্রান্সফরমার সমস্যার কারণে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার পর যে ট্রান্সফরমার তা ধারণ করে, সেটি অকেজো হয়ে পড়েছে। সেটা সচল করার জন্য শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। আর সাত দিন নগরবাসীর দুর্ভোগ থাকবে, এরপর সব ঠিক হয়ে যাবে।’ লো ভোল্টেজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রংপুর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নেই। জাতীয় গ্রিড দিয়ে বিদ্যুৎ আসতে আসতে বিদ্যুতের গতি কমে যায়, ফলে লো ভোল্টেজ হচ্ছে। এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র না হওয়া পর্যন্ত লো ভোল্টেজ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না।’
এদিকে অব্যাহত লোডশেডিং বন্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ, সদস্য সচিব সুভাষ রায়, সদস্য শফিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, শ্রমিক নেতা রেদওয়ান ফেরদৌস, সাংস্কৃতিক কর্মী নাসির সুমনসহ অন্যরা। স্মারকলিপিতে, জনদুর্ভোগ লাঘবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগসহ জেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।