বঙ্গবন্ধু সেতুতে দুই ঘণ্টায় তিন দুর্ঘটনা, নিহত ১০

যমুনা সেতু দুর্ঘটনা

ঘুন কুয়াশার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর ৫ সদস্যসহ কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ৩০ ও ৪০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।  

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) সহকারী প্রকৌশলী ওয়াসিম আহমেদ দুর্ঘটনার স্থানটি নিশ্চিত করেন। সেতু কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ৯ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম। অজ্ঞাত আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আশরাফ উদ্দিন।  

সেতু পশ্চিম ও পূর্ব থানা, ট্রাফিক পুলিশ এবং সেতু কর্তৃপক্ষের লোকজন উদ্ধার কাজ করছে। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতরা প্রায় সবাই বাস যাত্রী। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানা গেছে।

যমুনা সেতু-দুর্ঘটনা

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারের কড্ডা ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই আব্দুর রশিদ জানান, পাবনা থেকে ঢাকাগামী সরকার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘন কুয়াশার কারণে সেতুর উপর একটি গরুর ট্রাককে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এসময় পেছন থেকে আরও একটি বাস সরকার পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা থেকে সেতুর উপর উল্টে যায়। এতে কমপক্ষে চারজন নিহত ও ২০ জন আহত হন। 

এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় আগের দুর্ঘটনাস্থলটির পশ্চিম পারে সেতুর ৩০ ও ৩২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকাগামী হানিফ, ন্যাশনাল পরিবহন, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও অ্যাম্বুলেন্সসহ ১৬টি যানবাহন পরপর ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলে আরও ৫ জন নিহত হন। পরে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত আরও এক ব্যক্তি মারা যান। 
সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট হাবিবুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও সেতু থানা এবং ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার করতে যায়। ঘন কুয়াশার কারণে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর দু’টি পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে সেতুর পশ্চিম থানার গাড়ি চালক ও কনস্টেবল এবং দমকল বাহিনীর ৩ সদস্য আহত হন।

/এসটি/ এইচকে/