কুমেকে হামলার ঘটনায় ৮ম দিনেও কর্মবিরতিতে চিকিৎসকরা

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর উপর্যুপরি হামলার ঘটনায় ৮ম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসকরা। তাদের কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। এদিকে পুনরায় হামলার আশঙ্কায় হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. আবদুল আউয়াল সোহেল জানান, ১ জানুয়ারি রাতে নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকার সবুজ নামে এক যুবক তার ৩ বন্ধু সজীব, নাজমুল হাসান ও রাজনকে নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে তারা এক নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ৪ ইন্টার্নি চিকিৎসক তাদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২ জানুয়ারি থেকে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যান। এর মধ্যে ৬ জানুয়ারি রাতে আবারও হাসপাতালে প্রবেশ করে ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. সজীবুল হককে মারধর করা হয়।

হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক,কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাসপাতালের দেয়ালে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত পোস্টার। সেখানে লেখা আছে ‘সেবা দিতে এসেছি, রক্ত দিতে নয়।’
ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি আবুল কালাম নামে এক রোগী জানান, ৩/৪দিন ধরে কোনও চিকিৎসক আসছেন না। নার্সদের ডেকে এনে পরামর্শ নিতে হচ্ছে। ৫শ’ শয্যার এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮ শতাধিক রোগী। সবার জিজ্ঞাসা কবে শেষ হবে এ অচলাবস্থা!
বিএমএ কুমিল্লার সভাপতি ডা. গোলাম মহিউদ্দীন দীপু বলেন, বার বার চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত। এ কারণে আমরা জেলাব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছি। শনিবার থেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি, প্রতি ওয়ার্ডে সশস্ত্র আনসার এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছি। দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এ বি এম খুরশীদ আলম জানান, চিকিৎসকদের ওপর বার বার হামলার ঘটনায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ কে.এ মান্নানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইন্টার্নি চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. বাছেদ আহমেদ সরকার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আবদুর রব জানান, এ ঘটনায় রাজন, সবুজ, সজীব, নাজমুল হাসানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, হাসপাতালের অচলাবস্থার বিষয়টি শুনেছি। রবিবার হাসপাতালে গিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

/আরএ/টিএন/