মাদারীপুরে স্থগিত হওয়া কালকিনি পৌরসভার ২টি কেন্দ্রে এবারও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভোটে এগিয়ে থাকা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এনায়েত হোসেনের দাবি স্থগিত কেন্দ্র দুটি তার নিজের এলাকায় হওয়ায় তিনিই বিজয়ী হবেন। এদিকে প্রশাসনের কাছে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা। ১২ জানুয়ারি এই দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে ১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে স্থগিত হওয়া ২টি কেন্দ্রের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে পৌর মেয়রের ভাগ্য। এখানে নির্বাচন হওয়া ১৫টি কেন্দ্রের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছাত্রলীগ সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ ১১৬০ ভোটে এগিয়ে আছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৬৬১ ভোট। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র এনায়েত হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪৫০১ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন। স্থগিত হওয়া কেন্দ্র দুটি তার এলাকায় হওয়ায় ভোটারদের হিসেবে অনুযায়ী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই দু’জনের মধ্যে।
৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে কালকিনি পৌরসভার কাষ্ঠগর ও জোনারনন্দী এই দুটি কেন্দ্রে ঢুকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ৮০১টি ও ৫০৩টি ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখায় ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। তবে ভোটাররা আশা করছেন এবার প্রশাসন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান সবুজ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর আগে ওসিকে প্রত্যাহার, ভোটের রাতে ব্যালটে জোর করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখা, পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারও কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনায়েত হোসেনের দাবি, কেউ যাতে ভোট কিনতে না পারে তাই সাধারণ ভোটাররা এসব প্রতিরোধ করেছে। এছাড়া ৩০ তারিখ নির্বাচনের আগের রাতে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখার প্রসঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তিনি দোষারোপ করে বলেন, ‘তারাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন’।
/জেবি/টিএন/