‘করোনা-টরোনা নেই, মাস্ক থুতনির উপরে ঝুলাই রাখছি প্রশাসনের স্যারেরা আসলে দেখানোর জন্য। যাতে জরিমানা না করতে পারেন। কাজ না করলে মুখে খাবার জুটবে না। ঘরে বসে থাকলে বৌ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চলবে কীভাবে। সরকার কি খাবার ঘরে পৌঁছে দেবে?’ ময়মনসিংহ মহানগরীর মেছুয়াবাজারের মাছ বিক্রেতা ইদ্রিস আলী (৪৫) পদ্মার ইলিশ কাটতে কাটতে এই কথাগুলো বলছিলেন।
ইদ্রিস আরও জানান, শহরের বড় সড়কে সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ বাজারে আসেনি। তাই বাজারের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী মাস্ক পরছেন না।
শুধু ইদ্রিস আলী না, সোমবার (৫ জুলাই) দুপুরে মহাগরীর মেছুয়া বাজারে সরেজমিন দেখা গেছে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে মাস্ক না পরেই বেচাবিক্রি করতে। মানছেন না কেউ সামাজিক দূরত্ব। বাজারের মুদি দোকানি আবুল হোসেন বলেন, ‘মহানগরীর প্রধান সড়কে যেভাবে প্রশাসনের কড়াকড়ি চলছে বাজারে সে ধরনের কোনও ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এ কারণে ব্যবসায়ীদের মাঝে সরকারের বিধিনিষেধ মানতে দেখা যাচ্ছে না। কেউ মাস্ক পরছে না দেখে আমরাও পরছি না।’
এদিকে বাজারে কিছু ক্রেতাকে মাস্ক পরতে দেখা গেলেও অনেকেই তা থুতনির সঙ্গে রেখেছেন। সেহড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার ক্রেতা কালাম জানান, প্রধান সড়কে যেভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে এর উল্টো চিত্র বাজারে। দেশে লকডাউন চলছে, বাজারে আসলে তা মনে হয় না। এখানে কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। বাজারগুলোতে প্রশাসনের টহল জোরদার করা জরুরি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, লকডাউন সফল করতে মহানগরীর অলিগলি এবং বাজারগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।