জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঝিনাই নদীর ওপরের সেতুটি গত বছর বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে পড়ে। সেতুটি মেরামত না করায় ওই অঞ্চলের ২০টি গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, সেতুর দুই পাশ থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। এজন্য গত বছর বন্যার পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙে যায়। এতে করে সেখানে নতুন কোনও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দেড় লক্ষাধীক মানুষ নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করার জন্য এই সেতুটি ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। বয়স্ক লোকজন ও রোগী নিয়ে চলাচলে বিপাকে পড়তে হয় এলাকাবাসীর।
সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাই নদীর ওপর উপজেলার শুয়াকৈর গ্রামে ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি গত ২০০৬ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। ২০২০ সালের জুলাই মাসের বন্যার পানির তোড়ে সেতুর মাঝখানের তিনটি স্প্যান ভেঙে পড়ে। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে কামরাবাদ, সাতপোয়া ও পাশের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
চুনিয়াপটল গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী, হায়তুল্লা মিয়া, করিম উদ্দিন, খালেক মণ্ডল ও আশরাফ আলী বলেন, ‘বিগত দিনে নিচ থেকে ডেজার মেশিনে মাটি উত্তোলনের ফলে বানের পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ায় নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। ঘাটে রাত-বিরাতে অনেক সময় নৌকা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
এ বিষয়ে কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আলী খান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের কাছে ইউনিয়নবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা সেতুর ওপর নতুন করে সেতু করে দেওয়া হোক।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, ‘সেতুর দুই পাশ থেকে বালু উত্তোলন করায় মাটি সরে যায়। ফলে সেতুটি ভেঙে যায়। নতুন সেতুর প্রাক্কলন তৈরি করে জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব উদ্দিন আহমদ জানান, জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।