বোমা ফাটিয়ে সাবেক স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, যুবক আটক

ফেসবুকের ঘোষণা দিয়ে বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং হামলা চালিয়ে সাবেক স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার সময় নূহ পারভেজ (৩০) নামে এক যুবক আটক হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছেন দুই জন। বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা গনশার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী পরিবার কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছে।

হামলার সময় গণধোলাইয়ের পর জনতার হাতে আটক নূহ পারভেজকে পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসান আদেল নামে এক স্কুলছাত্রকেও ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতের মাধ্যমে আসামি নূহ পারভেজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিকট শব্দে বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে নগরীর মাসকান্দা গণশার মোড় এলাকার ৯৫ নম্বর বাসার দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে নূহ পারভেজ। রাতের খাবার শেষে একটি কক্ষে সে সময় কথা বলছিলেন তার সাবেক স্ত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। ছুরি উঁচিয়ে নূহ পারভেজ তার সাবেক স্ত্রীকে তুলে নিতে চাইলে বাধা দেয় ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান আদেল(১৫)। ছুরির আঘাতে এ সময় জখম হন আদেল ও তার চাচাতো ভাই ফজলে রাব্বী (২২)। বোমার শব্দসহ বাসার ভেতর থেকে ডাক চিৎকারে আশপাশের মানুষজন এগিয়ে এসে জাপটে ধরে ফেলে নূহ পারভেজকে। পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। এর আগেই সটকে পরে নূহ পারভেজের সহযোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ আগস্ট নগরীর গোহাইলকান্দি এলাকার বাসিন্দা কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসরাফিল খানের ছেলে নূহ পারভেজ। তার সঙ্গে মাসকান্দা গনশার মোড় এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহীদের মেয়ে তন্বীর বিয়ে হয়। ‘জঙ্গি’ আচরণ ও মাদকাসক্তির অভিযোগে বিয়ের সাত দিনের মাথায় ময়মনসিংহ আদালতে ডিভোর্স হয় তাদের। এরপর থেকে পারভেজ তার ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে এবং মোবাইল ফোনে সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারসহ স্বজনদের হত্যার হুমকি ছাড়াও মানহানিকর পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ র‌্যাব-১৪-এর স্থানীয় কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোতয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর বৃহস্পতিবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।