প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার শান্তিনগর গ্রামে বৃদ্ধা জোহারা খাতুন (৭৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছোট ছেলে জমির খাঁ তাকে হত্যা করে। গ্রেফতারের পর সে এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে জোহরা খাতুনকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জমিরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জমিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানকালে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সে।

পুলিশ জানায়, আখাউড়া পৌর শহরের শান্তিনগর গ্রামে বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিরের সঙ্গে প্রতিবেশী চাচা বজলুর বিরোধ চলছিল। আদালতের রায়ে জমিরের পক্ষকে বাড়ির সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সম্পত্তির দখল বুঝে পেলেও বজলু ও তার লোকজন সম্পত্তি ফিরে পেতে জমিরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। এসব কারণে বজলুকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা করে জমির।

এর জেরে রবিবার সকাল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় জমির তার বৃদ্ধা মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর রক্তমাখা দা ঘরের সিলিংয়ের ওপর রেখে দেয়। লাশ ওই ঘরের এক কোণে পড়ে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। লাশ দেখে পুলিশসহ স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে।

পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীরা জোহরাকে হত্যা করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক প্রতিপক্ষের তিন জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে পুলিশ জমিরকে আটক করে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহ হলে জমিরকে থানায় আনা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। আজ দুপুরে তাকে আদালতে হাজির কর হয়। এ সময় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় সে।