নীলফামারী জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া গ্রামের (সরকারপাড়া) ষাটোর্ধ্ব জব্বার আলী শীতে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘জীবনে এমন ঠান্ডা দেখি নাই বাবা। ভাঙ্গা ঘরোত শীতে বিছানা-বালিশ ভিজি যায়। যে কাইত ঘোরে সেই কাইতে ঠান্ডা নাগে। বাঁছিবার কোনও পথ নাই। একখানা কম্বলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরিও পাই নাই।’
পৌষের শেষে নীলফামারীতে ফের জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সন্ধ্যা নামলেই ঘরমুখী হয়ে পড়ছেন পথচারীরা। সারাদিন মিলছে না সূর্যের দেখা। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার যানবাহন।
এদিকে, জেলার ডিমলা ও সৈয়দপুরে গত দুই দিনের (মঙ্গলবার ও বুধবার) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহম্পতিবার জেলার ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এমন বাড়া-কমায় কখনও সূর্যের দেখা মিলছে, আবার সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে। এই অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, শ্রমজীবী, কৃষিশ্রমিক, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, অটোচালক, স্কুলগামী শিশু, নবজাতক ও বয়স্করা পড়েছেন বিপাকে। এদিকে, স্থানীয় হাসপাতালে শীতজনিত রোগে বাড়ছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নিউমোনিয়া ও স্বর্দি-জ্বরে আক্রান্ত।
জেলা শহরের বড়বাজার রিকশা স্ট্যান্ডের ভ্যানচালক ফোরকান আলী বালু (৪৭) বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে ঠান্ডা বাতাসে হাত-পা কনকন করে। ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরা যায় না। ভ্যান নিয়ে রাস্তাত গেলেও ভাড়া পাওয়া যায় না। শহরত মাইনসে নাই। আগত যেটে সারাদিন কামাই হছিল ৪৫০-৫০০ টাকা। তারপর মালিকের ভ্যানের জমা তো আছেই। এখন ৫০ টাকাও কামাই নাই। এমন ঠান্ডায় বাঁচি কেমন করি বাবা।’
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু জানান, গত চার দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এ ছাড়াও সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দূর-পাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কনকনে এই শীতে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষি শ্রমিক, বিশেষ করে উত্তরা ইপিজেডের কর্মরত শ্রমিকরা দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াতে পড়েছেন বড় বিপাকে।