কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা গ্রামের মো. দুলাল মিয়া ও তার পরিবার।
অভিযুক্ত ওই সহকারী শিক্ষকের নাম হারুনুর রশিদ। তিনি উপজেলার রমনা ইউনিয়নের মুদাফৎথানা এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এলাকায় আধিপত্য দেখাতে গত বছরের নভেম্বরে দুলালের পরিবারের ওপর কিশোরদের দিয়ে অতর্কিত হামলা করান সহকারী শিক্ষক হারুন। এতে দুলালের ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায় এবং তার স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হন। এ নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে একঘরে করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ওই শিক্ষক মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে চাঁদাবাজিসহ নানান অপকর্ম করে আসছেন। এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গেও জড়িত তিনি। তিনি শিক্ষার্থীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে দুলাল বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর গত ১৪ নভেম্বর হারুনসহ অন্য আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেন। এরপর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। আমাকে মারার উদ্দেশ্যে একাধিকবার আমার বাসায় আসেন। আমাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের অকথ্য গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। সেই থেকে আমি গা ঢাকা দিয়ে আছি।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক হারুন। তিনি বলেন, ‘সহপাঠীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় দুলালের ছেলের ওপর কিছু ছেলে হামলা করে। এতে দুলাল এগিয়ে এলে হামলায় তিনিও আহত হন। আমি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করাই এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। পরে জানতে পারি, আমাকে হুকুমের আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে।’
‘আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আদালত থেকে জামিন নিয়েছি, আদালতেই আমি নির্দোষ প্রমাণিত হবো।’ যোগ করেন শিক্ষক হারুন।
চিলমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনও বিষয় নেই। অভিযুক্তরা জামিনে আছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর বাদীকে ডেকে থানায় জিডি নেওয়া হয়েছে, যা তদন্তাধীন।’