চালককে হত্যা করে মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় মোহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ (৩৯) এবং তৌহিদুল ইসলাম (৪৪) নামে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান এ আদেশ দেন। পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হত্যার শিকার মাইক্রোচালকের নাম শহিদার রহমান (৩৫)। তিনি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়া খানপাড়া এলাকার বাদশা খানের ছেলে। তিনি ঢাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তির মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ রংপুর শহরের শালবন এলাকার মোস্তফা হোসেনের ছেলে। তৌহিদুল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শালটি গোপালপুর এলাকার মোস্তফার ছেলে। মামলার অপর আসামি রবিউল ইসলামকে (৩৪) বেকসুর খালাস দেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৯ জুন ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার কথা বলে আসামিরা মাইক্রোবাস ভাড়া নেন। এরপর চালক শহিদার রহমানকে হত্যা করে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কাজলডাঙ্গা এলাকায় লাশ ফেলে রেখে ৩০ জুন রাতে কুড়িগ্রাম শহর হয়ে পালানোর সময় কলেজ মোড় এলাকায় রবিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ হোসেন ওরফে পারভেজ টহল পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তবে তৌহিদুল পালিয়ে যান।
এরপর পুলিশ শহিদার রহমানের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পাওয়া ঠিকানায় খবর দিলে নিহত চালকের স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। ওই বছর ১ জুলাই নিহতের ভাই সাইদুর রহমান খান বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে উলিপুর থানায় মামলা করেন। প্রায় এক যুগ মামলার কার্যক্রম চলার পর মঙ্গলবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিটর এসএম আব্রাহাম লিংকন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, মনোয়ারুল ইসলাম আলো ও মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মামলা পরিচালনা করেন।