খুলনায় হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ছুরিকাঘাতে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তিকে হত‌্যার ঘটনায় মামলায় খুলনার এক‌টি আদালত আসা‌মি জসিমকে মৃতুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসা‌মি পলাতক রয়েছেন।

খুলনার অতি‌রিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম আশিকুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়‌টি নি‌শ্চিত করেছেন ওই আদালতের এপিপি সা‌ব্বির আহ‌মেদ।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, মামলার বাদী হাজী ইসমাইল লিংক রোডের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩) নিহতের ঘটনায় ২০০৯ সালের ১৯ মে রাতে সোনাডাঙ্গা থানার মামলা দায়ের করেন। ভিকটিম জাহাঙ্গীরের বাড়ির নিচতলার ভাড়াটে রবিউল। ওই বাড়ির সামনে রবিউলের মুদির দোকান আছে। হত্যাকাণ্ডের ৪-৫ দিন আগে রবিউলের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। জাহাঙ্গীরের বাড়ির আর এক ভাড়াটে জসিম রিকশাচালক। তিনি রবিউলকে বলেন, তাকে (জসিম) ৮শ টাকা দিলে মোবাইল ফোন বের করে দিতে পারবেন। তখন রবিউল জসিমকে ৮শ টাকা দেন। কিন্তু কয়েকদিন গত হলেও জসিম রবিউলকে মোবাইল ফোন ফেরত দেননি।

এ অবস্থায় ২০০৯ সালের ১৯ মে সকাল ১১টায় সোনাডাঙ্গা থানাধীন ইসলাম কমিশনারের মোড়ে স্থানীয় হুমায়ুন কবীর, শাহাজাদা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা একটি সালিশ বসায়। সালিশে সাব্যস্ত হয়, জসিম রবিউলকে ৮শ টাকা দেবেন এবং মোবাইল ফোন ফেরত দেবেন। এই সালিশের পর জাহাঙ্গীর জসিমকে ওই মাসের মধ্যেই তার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একই দিন বিকাল ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর রবিউলের বন্ধ দোকানের সামনে একটা বেঞ্চের ওপর বসে বাড়ির দোতলার রাজমিস্ত্রির কাজ দেখছিলেন। সে সময় পেছন থেকে জসিম জাহাঙ্গীরের ঘাড়ে ছুরি ঢুকিয়ে দেন। তখন স্থানীয় সাক্ষী শুকুর, মনির ও সুজন ঘটনা দেখে জসিমকে ধাওয়া দেয়। এদিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর জাহাঙ্গীর মারা যান। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকে আসামি জসিম পলাতক থাকেন।

এজাহার দায়েরের পর সোনাডাঙ্গা থানার এসআই জিএম নজরুল ইসলাম ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বর্ণিত মোট ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ পি পি কাজী সাব্বির আহমেদ। তাকে সহায়তা করেন এপিপি শেখ শামীম আহমেদ পলাশ।