ভবন নির্মাণে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব, কাটা হয়েছে ৪৪ গাছ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মধ্যে জায়গা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস যেখানে আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছে সেটি বিআরডিবির জায়গা বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

রবিবার (৬ নভেম্বর) আদালত থেকে দেওয়া এক আদেশে বিবাদী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ওই জায়গার ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৪টি গাছ ইতোমধ্যেই কেটে ফেলা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর এক নিলাম ডাকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসব গাছ বিক্রি করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের ভবন যেখানে অবস্থিত সেটিকে ‘সিও অফিস’ বলা হয়। প্রধান ফটক হয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এর উত্তর-পশ্চিম দিকে বিআরডিবির ভবন। ঠিক পেছনেই খালি জায়গায় গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ১৬০ উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি ভবন নির্মাণের বরাদ্দ আসে। এরই আলোকে বিআরডিবি কার্যালয়ের পেছনের ছয় শতক ভূমিতে নির্মাণকাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ওই জায়গায় থাকা গাছ নিলামে বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টরা কেটে ফেলেন।

কেটে ফেলা গাছগত ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিআরডিবির পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা করে উল্লেখ করা হয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস যেখানে ভবন নির্মাণ করতে চাইছে সেটি বিআরডিবির জায়গা। এ বিষয়ে সব ধরনের কাগজপত্র থাকার পরও ভুলক্রমে বিএস খতিয়ানে কৃষি উন্নয়ন সংস্থার নামে লিপিবদ্ধ হয়। এ নিয়ে একটি মামলাও চলমান। এ অবস্থায় সেখানে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে বাধা দিলেও তারা প্রস্তুতি চলমান রাখে। আদালত এক আদেশে বিবাদী হিসেবে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছেন। না হলে একতরফা শুনানি হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

সদর উপজেলা সমবায় সমিতি লিমিটেডের (বিআরডিবি) চেয়ারম্যান আবু কাউসার বলেন, ‘উন্নয়ন কাজে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের জায়গা নিতে হলে তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। এ ক্ষেত্রে সেটি করা হয়নি।’

সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘জায়গাটি আমাদের কার্যালয়ের নামে রেকর্ড আছে এবং সব কাগজপত্রও আছে। ওই জায়গার গাছ কাটার সময় নিষেধ করা হয়। কিন্তু তাতে কাজ না হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। সেখান থেকে আসা নির্দেশনা মতো আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এদিকে, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখানে আমার কোনও অফিস হচ্ছে না। আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনের একটি কার্যালয়ের ভবন হবে। উপজেলা পরিষদ এটি বাস্তবায়ন করছে। এখন কেন সেখানে আমাকে বিবাদী করা হলো, বুঝতে পারছি না।’

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)ইয়ামিন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জায়গাটির মালিকানা উপজেলা পরিষদের। এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও আমাদের কাছে আছে। এখন তারা কেন তাদের জায়গা বলছেন সেটি তারাই বলতে পারবেন।’

/ইউএস/এমএএ/