কারাগার থেকে ফিরে আবারও ধর্ষণচেষ্টায় যুবকের মৃত্যু  

বগুড়ার শিবগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার সময় বিশেষ অঙ্গ কেটে দেওয়ায় এরশাদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদুলের মৃত্যু হয়। সোমবার রাতে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

শিবগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, এর আগে এরশাদুল ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। এ মৃত্যুর ঘটনায় গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত এরশাদুল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামের হারেজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। গত ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে এ ঘটনায় মামলায় এরশাদুল জেলে ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে ছাড়া পান তিনি।

এরশাদুল জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় এসে আবারও ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে স্বামী বাজারে গেলে এরশাদুল ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে গৃহবধূ কাছে ব্লেড রাখেন। ধর্ষণের চেষ্টা করলে নিজেকে রক্ষায় তিনি ব্লেড দিয়ে এরশাদুলের বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন। সে সময় এরশাদুলের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১০টার দিকে মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এরশাদুলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাড়া পেয়ে তিনি আবারও ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আসছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার পর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তার ব্লেড দিয়ে তার বিশেষ অঙ্গ কেটে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে তিনি বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছেন। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় এরশাদুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।