আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ১৫ বছর পর বাংলাদেশ যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে, সে সময় দেশকে এগিয়ে নেবে আজকের শিক্ষার্থীরা। সে জন্য আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চমানের ও স্মার্ট করতে চাই। তাই শিক্ষকদের গুরু দায়িত্ব নিতে হবে, ফাঁকি দেওয়া যাবে না। কারণ তারাই শিক্ষার্থীদের স্মার্ট করে গড়ে তুলতে পারেন। শিক্ষার্থীদের শুধু পোশাক-আশাক, টাচ ফোন আর চুলের স্টাইলে স্মার্ট হলে হবে না। তাদের লেখাপড়ায় স্মার্ট হতে হবে, মানসিকতায় স্মার্ট হতে হবে।’
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও কম্পিউটার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষকের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি পড়াশুনা শিখে জীবনে শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তার জীবনে অবশ্যই একজন শিক্ষকের ভূমিকা বাবা-মা, প্রতিবেশীর চেয়েও বেশি। এমন কোনও ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর তার জীবনে কোনও একজন শিক্ষকের বড় কোনও অবদান নেই। একজন শিক্ষক একজন, দশ জন বা একশ জন ছাত্রের জীবন পাল্টে দিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আজকের শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার জন্য কাজ করা হচ্ছে। আগে দেশের অল্প কিছু উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ছিল আর এখন প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ প্রায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঘার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি।’ যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার রয়েছে সেগুলো যেন যথাযথ ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে তদারকি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা বিশ্বের অনেক দেশকে ঈর্ষান্বিত করে। ১৯৭১ সালে আমরা যে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, আজকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই দেশকে পেছনে ফেলেছি। এটি সহজ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এটা সম্ভব হয়েছে।
‘আজকে আমাদের অর্থনীতির আকার পৃথিবীতে ৩৫তম। মজার ব্যাপার হলো– মালয়েশিয়া ৩৬তম, সিঙ্গাপুর ৩৭তম, ভিয়েতনাম ৩৮তম। এইসব দেশগুলো আমাদের পেছনে। মেগাপ্রকল্পগুলো ছাড়াই আমরা এই অবস্থানে পৌঁছেছি। মেগাপ্রকল্পগুলো যখন আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে, তখন দেশ কোথায় যাবে তা সরল অঙ্ক করে বের করতে হবে। বাংলাদেশ আরও উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে।’
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও কম্পিউটার বিতরণ করা হয়।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ কম্পিউটার সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে।