কিশোরগঞ্জে ১৯ বছর পর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে সাজসজ্জাদীর্ঘ দেড় যুগ পর আগামি ১৯ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সর্বশেষ কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর পর থেকে জেলা কমিটির শীর্ষ পদগুলো বছরের পর বছর খালি পড়ে আছে। ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে দলের কার্যক্রম। ভারপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই মারা গেছেন। ফলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ৬১ সদস্যের জেলা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুইজন কার্যকরী সদস্য মারা গেছেন। সর্বশেষ গত দুই মাস আগে মারা গেছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম। তবে জেলা কাউন্সিলের আগে ১২টি উপজেলা কমিটি হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। এখনও পর্যন্ত মাত্র দুইটি উপজেলায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে জেলা সম্মেলন করা হচ্ছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, অসীম কুমার উকিল, মির্জা আজম, কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ও শন্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য এ পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর নাম শোনা যাচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজাল জানান, জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কাউন্সিলর ও ডেলিগেট নির্বাচন করা হয়েছে। তারাই দলের নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দ্বিতীয় পর্বে হবে কাউন্সিল। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই জেলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন তিনি।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কাউন্সিলের  মঞ্চ সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক এনায়েত করিম অমি বলেন, আমরা নতুন মোড়কে পুরাতন মাল চাই না। আমরা চাই তরুণ  ও নতুন নেতৃত্ব বেড়িয়ে আসবে। যারা মাঠের নেতা ছিলেন, লড়াই সংগ্রাম করে দুর্দিনে দলকে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত হোক এটাই চাই।

এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, আমার প্রত্যাশা নতুন কমিটি নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হবে। আমি চাই কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা নির্বাচন হোক। তবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নিব।

/জেবি/এইচকে/