হিপ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির জন্য ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান

এক দশকেরও বেশি সময় পর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে হিপ জয়েন্ট রি‌প্লেস‌মেন্টের (‌‌রি‌প্লেস‌মেন্ট হে‌মি আর্থোপ্লাস্টি) সফল অস্ত্রোপচার করা হ‌য়ে‌ছে। সোমবার (১৫ মে) হাসপাতালের সিনিয়র কনসাল‌টেন্ট মো. গোলাম ফারুক মা‌নিক এই অস্ত্রোপচার করেন। 

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শাহীনুর রহমান সরদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীর নাম সু‌ফিয়া বেগম (৪০)। তি‌নি উলিপুর উপজেলার বুড়াবু‌ড়ি ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের ব‌ছিয়তের স্ত্রী। অপারেশনের পর তি‌নি বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের পোস্ট অপা‌রে‌টিভ কেয়া‌রে রয়েছেন।

সু‌ফিয়া বেগম বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগে পড়ে গি‌য়ে আমার বাঁ পা‌য়ের হাড় ভেঙে যায়। হাঁটাচলা কর‌তে পারছিলাম না। প‌রে চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করা‌তে রাজি হই।’ 

সু‌ফিয়া আরও ব‌লেন, ‘অপারেশনের টাকা নাই। হাসপাতালের ডাক্তার বিনা টাকায় অপারেশন করি দিছে। কোনমতে জিনিসপত্র (সা‌র্জিক্যাল ইকুপ‌মেন্ট) ‌কেনার টাকা জোগাড় কর‌ছি।’

অপা‌রেশনকারী চিকিৎসক মো. গোলাম ফারুক মা‌নিক ব‌লেন, ‘হাসপাতা‌লের নানা সংক‌টেও আমরা এই অস্ত্রোপচারে সফল হ‌য়ে‌ছি। সম্পূর্ণ বিনামূ‌ল্যে এই অস্ত্রোপচার করা হ‌য়ে‌ছে। হিপ জ‌য়ে‌ন্ট রি‌প্লেস‌মে‌ন্টে যে বাইপোলার ‌হিপ পো‌স্টেসিস নামক ইকুপ‌মেন্ট ব্যাবহার করা হ‌য়ে‌ছে তা কু‌ড়িগ্রা‌মে সরবরাহ নেই। জেলার বাইরে থে‌কে ‌কি‌নে আন‌তে হ‌য়ে‌ছে। রোগী শুধু এই খরচ বহন ক‌রেছেন।’

অপা‌রেশন থি‌য়েটা‌রে নানা সীমাবদ্ধতা ও দক্ষ জনবলের অভাবের কথা তুলে ধ‌রে এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘আমা‌দের এখানে দক্ষ সহকারী নেই। অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। আবার অপারেশন পরবর্তী দেখা‌শোনার জন্য দক্ষ জনবল নেই। নানা সীমাবদ্ধতা নি‌য়ে অপারেশন কর‌তে হ‌য়ে‌ছে।’ তিন সপ্তাহের মধ্যে সু‌ফিয়া বেগম স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু কর‌তে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরএমও ডা. শাহীনুর রহমান সরদার ব‌লেন, ‘এ ধরনের অস্ত্রোপচার সাধারণত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালে হ‌য়ে থা‌কে। এক দশক পর এখানে এই অস্ত্রোপচার হ‌লো। সংকটগু‌লো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। দক্ষ জনবল সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমা‌দের চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তা‌কে ধন্যবাদ জানাই।’