চবিতে সাংবাদিক মারধর: অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দোস্ত মোহাম্মদকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সাংবাদিক সমিতি। অন্যথায় লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতারা। কর্মসূচি শেষে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি চার দফা দাবিতে উপাচার্যকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।

মানববন্ধনে চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহবুব এ রহমান বলেন, ‘দোস্ত মোহাম্মদ একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আজকে লজ্জা হয়, যিনি এই দেশকে স্বাধীন করে গেছেন তার সন্তানকে আমরা নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এই দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।’

সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি সৈয়দ বাইজিদ ইমন বলেন, ‘সাংবাদিককে হামলার সাহস এক দিনে তৈরি হয়নি। দিনের পর দিন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে প্রশাসন মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে। এই যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তা দিন দিন ছাত্রলীগকে উগ্র হতে বাধ্য করেছে। আমরা আইনের ওপর আস্থা রাখি। আশা করবো প্রশাসন দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।’ 

সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকসু কার্যকর নেই। নেই কোনও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনও কাজে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে কর্মরত সাংবাদিকরা। কিন্তু আমরা দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরাই এখানে নিরাপদ না। বারবার সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, এই ঘটনার যদি বিচার না হয় আমরা গণ আন্দোলনে যাবো।’

সমিতির প্রচার প্রকাশনা ও দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আজহারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সাবেক সভাপতি ইমরান হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম সৈকত ও নবাব আব্দুর রহিম, সমিতির সদস্য মারজান আক্তার এবং নূর নওশাদ প্রমুখ।

এর আগে ১৯ জুন রাতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও একটি অনলাইন পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি দোস্ত মোহাম্মদকে মারধর করে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতাকর্মী। তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।