নকল কার্ড বানিয়ে দরিদ্রদের চাল তুলে নিতেন নারী মেম্বারের দেবর

কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙা ইউনিয়নে নকল কার্ড বানিয়ে ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ইউনিয়নের এক নারী ইউপি সদস্যের দেবর সাইদুর রহমান (৩৫) চক্রটির মূল হোতা। ভোগডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

অভিযুক্ত সাইদুর রহমান ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য রোসনা বেগমের দেবর। তিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাইম বড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার (২২ জুন) কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় সাইদুরের এক সহযোগীকে আটক করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে ওই সহযোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের একবটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবার ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হলেও প্রায় দুই শতাধিক তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী চাল পাননি। চক্রটি নকল কার্ড দিয়ে এই চাল তুলে নিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় দেড়শর বেশি নকল কার্ড বের করা হয়েছে, যেগুলো দিয়ে চাল নেওয়া হয়েছে। আরও বাছাই বাকি রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। ইউনিয়নে ১২ হাজার ১১৫ সুবিধাভোগীর মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চাল বিতরণের সময় নকল কার্ড দিয়ে চাল উত্তোলনের সময় এক কিশোরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২১টি নকল কার্ড উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কার্ড জালিয়াতির কথা স্বীকার করে। নারী ইউপি সদস্যের দেবর সাইদুর তাদের দিয়ে এই কাজ করাচ্ছিল বলে জানায় ওই কিশোর। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছর ভিজিএফের চাল বিতরণ শেষে অনেক তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী চাল পাননি। পরে আমি ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে তাদের প্রয়োজন মিটিয়েছি। তখন এই জালিয়াতির ঘটনা বুঝতে পারিনি। এবার ধরা পড়ার পর বুঝতে পারছি, একই চক্রের কাজ ছিল। আটক কিশোর তাও স্বীকার করেছে। ঘটনার পর থেকে সাইদুর পলাতক রয়েছে।’

ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা সংগৃহীত কার্ড যাচাই করে এখন পর্যন্ত শতাধিক নকল কার্ড পেয়েছি। আরও যাচাই-বাছাই চলছে। গত বছর কয়েক টন চাল ঘাটতি হয়েছে। যা সাইদুর নকল কার্ড দিয়ে সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। নারী ইউপি সদস্য বিষয়টি জানার পরও আমাকে জানাননি।’

নারী সদস্য রোসনা বেগমের জড়িত থাকার প্রশ্নে চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি জড়িত নন। তাদের পরিবারও আলাদা। তবে তিনি গত বছর বিষয়টি জানার পর তার দেবরকে এসব না করতে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। আমাকে তখনই জানালে এ বছর এমনটা ঘটতো না।’

‘সাইদুরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গৃহীত ব্যবস্থার প্রশ্নে জানান চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে জানতে নারী সদস্য রোসনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। আর ঘটনার পর থেকে সাইদুর পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেদুল হাসান বলেন, ‘জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যাতে কার্ড জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে, সেজন্য চেয়ারম্যানদের নিয়ে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’