আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নীলফামারীতে দুই লাখ ৯৮৯ প্রাণী প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এবারে ঈদুল আজহায় কোরবানির প্রাণীর ঘাটতি হবে না। গত বছরের চেয়ে এবার জেলায় দ্বিগুণ প্রাণী প্রস্তুত রয়েছে।’
পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে এবার জেলায় উদ্বৃত্ত প্রাণীর সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ২৬৪টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস, খৈল, চালের কুড়া ও ভূষি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। প্রস্তুত করা প্রাণী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। ওষুধের অপব্যবহার, রাসায়নিক খাবার বর্জনের ব্যাপারে খামারিদের নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা। পাশাপাশি, রোগাক্রান্ত প্রাণী কিংবা কোরবানির অনুপযোগী প্রাণী কেনাবেচা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা ভিত্তিক একটি করে মনিটারিং টিম গঠন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রত্যেক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
জেলা শহরের হাজি মহসিন সড়কের পাশেই বেলাল মিয়ার খামার দেখা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৩৫টি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। বেলাল বলেন, ‘এবারে আমাদের দেশি গরু দিয়েই কোরবানির হাটগুলো কানায় কানায় ভরে যাবে। প্রচুর গরু রয়েছে খামারিদের কাছে।’
সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের আবুল কালাম বলেন, ‘এবার কোরবানির জন্য দেশি প্রজাতির ২০টি গরু পালন করেছি। তবে গোখাদ্যের দাম ও কাজের লোকের হাজিরা, সব মিলে একটি গরুর পেছনে যে ব্যয় হয় তা পুষিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হবে।’
একই এলাকার গরু ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, ‘গত বছর করোনাকালের চেয়ে এবার দ্বিগুণ গরু কেনাবেচা হবে। এতে খামারি ও ব্যবসায়ী উভয়ে লাভবান হবেন।’
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এবার সদরে কোরবানির প্রাণী প্রস্তুত আছে ১৫ হাজার ৪৯৮টি। আশা করি, এই ঈদে প্রাণীর সংকট পড়বে না। এতে খামারি ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন।’