টেকনাফে ৮ বছরের শিশু অপহরণ, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি 

কক্সবাজারের টেকনাফে ফারিহা আক্তার (৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হ্নীলা বাজার থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। শিশুটির পরিবারের কাছে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ফারিহা আক্তার (৮) হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভী বাজারের ছানা উল্লাহর মেয়ে। সে হ্নীলা দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

ফারিহার মা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ৭টার দিকে আমার মেয়ে ফারিহা হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া তার বড় আম্মার বাড়ি থেকে ফেরার পথে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে আমার কাছে মোবাইল করে মুক্তিপণ হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করছেন অপহরণকারীরা। এ ঘটনার পর রাতে টেকনাফ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের কোনও সন্ধান মেলেনি।’

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, ‘ফারিহা নামে এক শিশু অপহরণের শিকার হয়েছে বলে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

এদিকে এখন আতঙ্কের জনপদ হয়ে উঠছে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। অপহরণের ঘটনা এখন দিন দিন ‘সীমান্তজুড়ে’ রুপ নিচ্ছে। এ উপজেলায় গত ছয় মাসে রোহিঙ্গাসহ প্রায় শতাধিক অপহরণের শিকার হন। এর মধ্য বেশির ভাগই মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরেন।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা বলছেন, ‘অপহরণ-বাণিজ্য’ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন-দুপুরে অস্ত্রসহ দলবল নিয়ে পাহাড়ের ভেতর থেকে এসে যে কাউকে সামনে পেলে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে অপহরণ করে তাদের বন্দিশালায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে। কেউ কেউ প্রাণ ভয়ে ধারদেনা করে, গরু-ছাগল ও ভিটেমাটি বিক্রি করে সন্ত্রাসীদের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসছেন। আর মুক্তিপণ দিতে না পারলে ‘টর্চার সেলে’ চলছে ভয়াবহ নির্যাতন। তাদের ল্যাপটপসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা ডিভাইস। যে প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আগাম তথ্য জানতে পারে চক্রটি। ফলে মুক্তিপণ না মিললে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফিরে আসছেন অনেকে। বিশেষ করে প্রাণ ভয়ে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা লোকজন মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।

এ বিষয়ে টেকনাফের বাসিন্দা নুরুল করিম রাসেল বলেন, ‘অপহরণ আতঙ্কে আমরা পরিবার নিয়ে ভয়ভীতির মধ্য রয়েছি। যেখানে আমরা নিজেদের তথ্য প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করছি, সেখানে গুটিকয়েক দস্যূ তিন লক্ষাধিক মানুষের জীবন অনিরাপদ করে তুলেছে, যা-কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’