রংপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্মঘটের ডাক

বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে মিছিল করার সময় রংপুর সিটি করপোরেশনের হরিজন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করেছেন হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

সোমবার সন্ধায় রংপুর নগরীর একটি বেসরকারি অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের সহসভাপতি রাজু বাসফোর।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনে কর্মরত হরিজন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তিন মাস ধরে তাদের বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। কয়েকদিন আগে তাদের বেতন ২ হাজার ২শ থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার ৪শ ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তাদের অভিযোগ, এই সামান্য বেতন দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। বার বার আকুতি জানানোর পরেও তাদের বেতন বৃদ্ধির নামে প্রহসন করা হয়েছে। যেখানে একজন ট্রাক শ্রমিকের বেতন সাত হাজার টাকার উপরে, সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন এত কম। এ জন্য হরিজন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করে আসছিলেন।

‘সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হরিজন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আসলে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নির্দেশে শতাধিক গুন্ডা-মস্তান লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। হরিজন সম্প্রদায়ের সানিক বাসফোরের বাঁ পা ভেঙে যায়। এ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাসান আলী গুরুতর আহত হন। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও হামলায় আহত হয়েছেন ডলি রানী , সিরিত বাসফোর, সাজু বাসফোর, লক্ষিন হেলা, রাজ বাসফোর, রুবেল ও জয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে হামলার নির্দেশদাতাসহ দায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার, তাদের মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ১১ দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হরিজন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আন্দোলন করছেন বলে শুনেছেন। তবে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তিনি পাননি বলে জানান।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলন শেষে হরিজন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি প্রতিনিধি দল রংপুর কোতয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেছেন বলে জানানো হয়।