‘তার আয়ের টাকা দিয়েই আমাদের সংসার চলতো। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু আমাদের দিশেহারা করে দিয়েছে। এখন এতিম সন্তানদের নিয়ে কী করবো আল্লাহই জানেন।’ কথাগুলো বলছিলেন মাইক্রোবাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নরসিংদীতে নিহত সাত জনের মধ্যে একজন আবদুল আউয়ালের স্ত্রী রেবা বেগম।
ঘুরতে যাওয়ার পথে নিহত ৭ জনই গার্মেন্টকর্মী
নিহত আবদুল আউয়ালের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণনগর গ্রামের কবির হাওলাদারের ছেলে। তিনি সাভারের এসবি নিটিং লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকালে আউয়ালের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে ফোন আসে আবদুল আউয়াল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার পথে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ঘাসিরদিয়ায় মারা গেছেন। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে নয় বছরের মেয়ে আরিফা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। থামানো যাচ্ছে না ছোট ছেলের কান্না।
নিহতের স্বজন রমিজ হাওলাদার বলেন, ‘আব্দুল আউয়াল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ায় তাদের সংসার চালানোর মতো আর কেউ রইল না।’
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আউয়াল হাওলাদারসহ ওই কারখানার ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী রাতে ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে সিলেট ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাইক্রোবাসটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের ইটাখোলা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ জন মারা যান। আহত হন ছয় জন। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে একজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা যান। গুরুতর আহত চার জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।