দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের কৃষিজমির খাত থেকে আয় বেড়েছে। আয় কমেছে ব্যবসা থেকে। তবে গতবার না থাকলেও এবার নগদ টাকা বেড়েছে। দ্বাদশ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন তার পেশা বিবিধ দ্রব্যের ব্যবসা, মৎস্য চাষ, আমদানিকারক ও সরবরাহকারী। এবার তিনি পেশা উল্লেখ করেছেন সম্মানী ভাতা, গৃহ-সম্পত্তির আয়, কৃষি আয় ও ব্যবসায়িক আয়।
২০১৮ সালে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী ইকবালুর রহিমের কৃষি খাত থেকে আয় ছিল ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। এবারের হলফনামায় তার কৃষি খাত থেকে আয় ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ভাড়া বাবদ আয় গতবার ছিল ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৮ টাকা। এই খাতে আয় বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। তবে ব্যবসা থেকে আয় কমেছে। কমেছে স্ত্রীর নামের টাকাও। ব্যবসা খাতে আয় ছিল ২১ লাখ ৫ হাজার টাকা, এখন হয়েছে ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর নামে টাকা ৪১ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৪ টাকার স্থলে হয়েছে ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৪৮ টাকা। তবে ২০১৮ সালে ইকবালুর রহিমের নগদ টাকা না থাকলেও এবার নগদ টাকার পরিমাণ এক কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৫১ টাকা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে ইকবালুর রহিমের ব্যবহৃত জিপের দাম ছিল ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা। এবার জিপের দাম ৫১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬৮ টাকা। কারের দাম ছিল ১১ লাখ টাকা, এবার কারের দাম ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে ৫ বছর আগে তার স্ত্রীর একটি কার থাকলেও এবার নেই।
হুইপ ইকবালুর রহিমের অকৃষি খাতে (বাড়ি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট) জমির পরিমাণ একই আছে। তবে কৃষিখাতে তার জমির পরিমাণ কমেছে। নতুন আসবাবপত্র না কিনলেও ২ লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী কিনেছেন। ২০১৮ সালে তার কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৫.৫১৫ একর। সেখানে এবারের হলফনামা অনুযায়ী তার কৃষিজমির পরিমাণ ৪.৮১৫ একর। অকৃষিখাতে তার বসুন্ধরায় ৩ কাঠা জমির মূল্য ২০১৮ সালে ছিল ২৯ হাজার ৫৩০ টাকা, এবারের হলফনামায় মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৫৩০ টাকা। উত্তরায় ৫ কাঠার ওপর বিল্ডিংয়ের মূল্য গতবার ছিল ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ টাকা, এবারের হলফনামাতেও সেটিই উল্লেখ করা হয়েছে। আর ধানমন্ডিতে ২ হাজার ৩৭৫ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। যা গত নির্বাচনের হলফনামাতেও একইরকম উল্লেখ ছিল।
ইকবালুর রহিমের স্বর্ণ দেখানো হয়েছে ৩ তোলা আর স্ত্রীর ৬৫ তোলা। এই ৩ তোলা স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ৬৫ তোলা স্বর্ণের মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ সালে তার আসবাবপত্র ছিল এক লাখ ৯৫ হাজার টাকার আর স্ত্রীর ছিল ৭৫ হাজার টাকার। এবারের হলফনামাতেও সেটিই উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে তার ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকার। এবারে তা হয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকার। তার স্ত্রীর ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী গতবারের মতো এক লাখ ২৫ হাজার টাকারই রয়ে গেছে।
ইকবালুর রহিম প্রতিশ্রুতিসমূহ ও অর্জনসমূহের বিষয়ে লিখেছেন, তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, ৯০ শতাংশ মাদকমুক্ত, ৯০ শতাংশ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৃষিখাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন ৯০ শতাংশ। যা ৫ বছর আগে দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল বিদ্যুতায়ন শতভাগ, ৮০ শতাংশ মাদকমুক্ত, যোগাযোগ ও কৃষিখাতে ৮০ শতাংশ এবং শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৮০ শতাংশ।