বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনি হলফনামায় তথ্য গোপন ও সরকারি দায়িত্বে বহাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিযোগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ আবেদন করেছেন একই আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী জামায়াত নেতা আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান।
বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির আবু নছর মোহাম্মদ আলমগীর হুসাইন বলেন, ‘সোমবার দুপুরে লিখিতভাবে এ আবেদন করেছি আমরা।’
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম হলফনামায় তথ্য গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন। তথ্য গোপনের বিষয়টি আমলে না নিয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মীর শাহে আলম বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পরিচালক পদে এখনও নিয়োজিত আছেন। বিসিকের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ না করে মনোনয়নপত্রে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে শিল্প সচিব, বিসিক চেয়ারম্যান ও বিসিকের পরিচালক জানিয়েছেন, মীর শাহে আলমের পদত্যাগের বিষয়ে তারা অবগত নন। পদত্যাগের চিঠি তাদের হাতে যায়নি এবং নজরে পড়েনি। তিনি বিসিকের পরিচালক পদ হতে পদত্যাগ যে করেননি তার বড় প্রমাণ হলো গত ২৬ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত বিসিক পরিচালনা পর্ষদের ৮৩৪তম সভার নোটিশের ৫ নম্বর ক্রমিকে মীর শাহে আলমকে সরকার কর্তৃক মনোনীত শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পর্ষদ সদস্য উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সুস্পষ্টভাবে তথ্য গোপন করার পরও মীর শাহে আলমের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। আইন মেনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মীর শাহে আলমের প্রার্থিতা বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা নিতে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে বিসিকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের ডিজিএম একেএম মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিসিকের পরিচালক পদ থেকে মীর শাহে আলম পদত্যাগ করেছেন কিনা সে ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। কারণ তিনি পদত্যাগ করলে বিসিকের চেয়ারম্যানের কাছে করার কথা।’
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ দেওয়ার কথা শুনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে সত্যতা পেলে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিসিকের পরিচালক কোনও লাভজনক পদ নয়। ব্যবসায়ী হিসেবে আমি বিসিকের পরিচালক। সে কারণে পদত্যাগ করিনি। এ নিয়ে মনোনয়নপত্রে কোনও তথ্য গোপনও করিনি।’









