চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ

কাউকে দেখলেই সোহেলের বাবা বলছেন, ‘আমার বাবা কখন আসবে’

ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি সুরভী-৮ লঞ্চের সঙ্গে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশনগামী টিপু-১৪ লঞ্চের সংঘর্ষে মারা যাওয়া সোহেল তানভীরের (৩০) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে সোহেল নিহত হন। সোমবার রাত ৯টায় ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে সোহেলকে বহনকারী এমভি সুরভী-৮ লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন। আহতদের মঙ্গলবার ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সোহেলদের বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, একমাত্র ছেলে সোহেলকে হারিয়ে বাবা সেলিম ফরাজী নির্বাক। তার দুচোখ বেয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে। কাউকে দেখলেই বলছেন, ‘আমার বাবা কখন আসবে।’ মা আকলিমা বেগম পুত্রশোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

সোহেলের চাচা নুরে আলম নুরু মেম্বার জানিয়েছেন, সোহেলের শ্বশুরবাড়ি ভোলার ইলিশা ইউনিয়নে। প্রায় পাঁচ বছর আগে সোহেল বিয়ে করেন। স্ত্রী শাহিনা বেগম ভোলা সদরের মধ্য ইলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সেই সুবাদে সোহেল এবং তার স্ত্রী ভোলাতেই থাকতেন। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশনের আমিনাবাদে বেড়াতে যেতেন। সোহেলের বাবা সেলিম ফরাজী কৃষিকাজ করেন।

প্রতিবেশী মো. তকির জানান, সোহেল এলাকায় এলে সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলতেন। তিনি ছিলেন বিনয়ী ও সদালাপী। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবরা তার এমন মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না।

চাচাতো ভাই মাসুদ জানান, সেলিম ফরাজীর এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সোহেল সবার বড়। সোহেল স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ফুড কোম্পানিতে ম্যানেজার পদে চাকরি করতেন। তিন মাস আগে ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভোলায় অবস্থান করছিলেন। ৮ ডিসেম্বর ভোলায় অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।

নিহত সোহেলের আফিয়া জাহান নামে দুই বছরের একটি মেয়েসন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী এখন সন্তানসম্ভবা। মঙ্গলবার লঞ্চ দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে তার বাবার বাড়ি ভোলা সদরের ইলিশায় নেওয়া হয়।

এদিকে, সোহেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার নানা সৈয়দ আতাহার উদ্দিন মাস্টার ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার লঞ্চে সোহেলের মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে শ্বশুরবাড়িতে প্রথম জানাজার পর তার চরফ্যাশনে নিজবাড়িতে নেওয়া হবে। বুধবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।