নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জামপুর ইউনিয়নের মাঝের চর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের চর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত শফেদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে। ওই ইউনিয়নের ধন্ধি বাজারে রড ও স্টিলের ব্যবসা করতেন তিনি।
নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী আসমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ব্যবসার কাজে যাচ্ছিলেন। পথে মাঝের চর বাস স্ট্যান্ড থেকে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি আরও যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও যাত্রী না পাওয়ার কারণে তিনি অটোরিকশা থেকে নেমে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নেমে যাওয়ার সময় অটোরিকশার অটোচালক জাকির হোসেন এবং লাইনম্যান দাইয়ান মিয়ার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় লাইনম্যানের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাকে পেটানো হয়। আর চালক জাকির তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। তাদের সঙ্গে স্ট্যান্ডের অন্য অটোচালকরা যুক্ত হয়ে মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়লে নজরুলকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অটোস্ট্যান্ডে কোনও একটা বিষয় নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। এতে নজরুল আহত হলে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। মূলত যেখানে তিনি আহত হয়েছেন সেই স্থানটি সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের মধ্যবর্তী এলাকা। তাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কী কারণে মারধর করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’