চট্টগ্রামে দন্ত চিকিৎসক হত্যা: মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুরু থেকে মামলাটি তদন্ত করে আসছিল সিএমপির আকবর শাহ থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি বৃহস্পতিবার সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। 

এদিকে, নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন আদালত থেকে জামিনে এসে এলাকায় মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চিকিৎসক কোরবান আলী খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি কমিশনার স্যারের নির্দেশে দুই দিন আগে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।  মামলাটি এখন থেকে ডিবি পুলিশ দেখবে।’

ওসি বলেন, ‘এ মামলার তিন আসামি মো. সাগর, মো. সংগ্রাম ও পাভেলকে আমরা গ্রেফতার করেছি। আরও কয়েকজন আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। বাকিরা পলাতক। এর মধ্যে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

সিএমপির ডিবি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘চিকিৎসক কোরবান আলী খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা আজ রবিবার থানা থেকে ডকেট হাতে পেয়েছি। মামলাটি নিয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি।’

এদিকে, নিহত চিকিৎসক কোরবান আলীর ছেলে আলী রেজা রানা বলেন, ‘আমার বাবা হত্যার আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। পুলিশ এতদিন তাদের গ্রেফতার করেনি। এখন নাকি প্রধান আসামি গোলাম রসুল নিশান, রাজু ও অপূর্ব আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। জামিন নিয়ে তারা শনিবার ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়েছে। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কে আছি। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। শুধু আমরাই না, আমার বাবা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন তারাও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’

এদিকে, গত ২৬ এপ্রিল চিকিৎসক কোরবান আলীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। নগরীর আকবর শাহ থানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধন থেকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল নগরীর পশ্চিম ফিরোজ শাহ এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাত থেকে দুই স্কুলছাত্রকে বাঁচাতে ৯৯৯ নম্বরে কল করেন ডা. কোরবানের ছেলে আলী রেজা রানা। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ওইদিন সন্ধ্যায় গ্যাংয়ের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে রানাকে মারধর করতে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন চিকিৎসক কোরবান আলী।

আহত কোরবান আলীকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মেডিক্যাল সেন্টার নামে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১০ এপ্রিল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর আলী রেজা রানা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আকবর শাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।