বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলি করে হত্যা

গাজীপুরে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আরিফ ব্যাপারী (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) জেলার পূর্ব কলমেশ্বর এলাকার বাসিন্দা নিহতের বাবা রজ্জব আলী গাছা থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল ইসলাম জানান, মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি এবং ১১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তার ছেলে আরিফ ব্যাপারীকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। মামলায় হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মতিসহ ১১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।’

অপরদিকে, গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, কাশিমপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হককে। এতে ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) মামলাটি দায়ের করেন কাশিমপুরের লতিফপুর এলাকার আমিনুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া সোহেল রানা।

মামলার অপর আসামিরা হলেন– মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন (৫০), সাধারণ সম্পাদক মীর আসাদুজ্জামান তুলা (৫০)।

ওসি বলেন, ‘মামলার বাদী সোহেল রানা এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি একটি কোম্পানির সেলসম্যান। বিভিন্ন দোকানে পণ্য সরবরাহ করেন। গত ৪ আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে কাশিমপুর থানার চক্রবর্তী বাসস্ট্যান্ডে সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন। সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র-জনতা চক্রবর্তী বাসস্ট্যান্ড অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। তখন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হকের নির্দেশে নাম উল্লেখ করা আসামিরাসহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জন সন্ত্রাসী বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করতে থাকে। এ সময় একটি গুলি সোহেলের ডান পায়ে হাঁটুর নিচে লেগে বের হয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।’