রাঙামাটি বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সকালে শহরের বনরূপা এলাকার মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন– ভদন্ত পুণ্য জ্যোতি মহাথের, শীলানন্দ মাহাথের, মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পূর্ণচন্দ্র দেওয়ান, সহ-সভাপতি উদয়ন চাকমা প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গত ২০ তারিখ হঠাৎ কিছু লোক বিহারে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে বিহারের পবিত্র বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করে এবং বিহারের থাকা দানবাক্স নিয়ে যায়।
‘বাংলাদেশের মতো স্বাধীন, সার্বভৌম ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে অন্য ধর্মের প্রতি এ ধরনের চরম অবমাননার ঘটনায় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বড় অন্তরায়। আমরা এসব সাম্প্রদায়িক মদতপুষ্ট দুর্বৃত্ত ও দৃষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তারা আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে এটা প্রথম সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনা নয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও নানাভাবে হামলাসহ বারবার এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনা ঘটছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ বিচারহীনতা ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। এর আগে পাহাড়ে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক ঘটনার কোনোটারই সুষ্ঠু বিচার হয়েছে– এমন কোনও নজির নেই।’
বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটিতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ধর্ম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭-এর আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।