যশোর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে মতবিনিময়, প্রতিমা প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ঘাটতি রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের অন্যতম প্রতিনিধি জেসীনা মুর্শীদ প্রাপ্তির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে পৃথকভাবে পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শনে বের হন। তারা যশোর শহরের বেজপাড়া পূজা মণ্ডপ, বয়েস ক্লাব পূজা মণ্ডপ, নিউ বেজপাড়া, বৈঠকখানা বেজপাড়া, সুধীর বাবুর কাঠগোলা, চাঁচড়া সুন্দরী মন্দির, চাঁচড়া শিব মন্দির পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন বলেন, ‘পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি; তাদের আন্তরিকতার কোনও ঘাটতি নেই। তবে আমাদের কিছু নিরাপত্তাজনিত সংকট রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; আমরাও পূজা মণ্ডপগুলোতে হিন্দু-মুসলমান মিলিয়ে একটা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে প্রশাসনকে একটি ফরম্যাট দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক পূজা মণ্ডপে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা নেই। চেষ্টা করছি, প্রতিটা মণ্ডপকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আনার জন্য।’
এ বছর যশোর জেলার আট উপজেলায় মোট ৬৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের অন্যতম প্রতিনিধি জেসিনা মুর্শীদ প্রাপ্তি বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মের ভাই-বোন সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিমা ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে, এখন রঙ-তুলির কাজ চলছে। আমরা যশোরের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের অবহিত করে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে বেরিয়েছি। মণ্ডপগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছি, কোনও নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি আছে কিনা, যেখানে সিসি ক্যামেরা নেই সেগুলোর তালিকা করছি। নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে যেসব মণ্ডপে সেগুলোর তালিকা করে আমরা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবো।’
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন– শাদমান সাকিব রাদ, শিহাব সারার দীপ্র, রফিকুল ইসলাম রোছি, আমির হামজা, আহম্মদ কবির পিয়াস, সাফওয়ান, আবরার জাওয়াদ, আহনাফ, আজওয়াদ জর্জিস, জুবায়ের বিন ফারুকসহ আরও অনেকে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বেজপাড়া পূজা মণ্ডপের সভাপতি অচিন কুমার ধর, সুশীল বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।