রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডলকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার সকাল ৯টায় রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালত ২-এর বিচারক আসাদুজ্জামান এই আদেশ দেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সদস্যদের গুলিতে নিহত ফল ব্যবসায়ী মেরাজ হত্যা মামলায় আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার এ আদেশ দেন আদালত।
এর আগে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তুষার কান্তিকে আদালতে আনা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানার এসআই বিজন আসামিকে আদালতে নিয়ে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিজন আদালতে বলেন, ‘আসামি তুষার কান্তি মণ্ডল ফল ব্যবসায়ী মেরাজুল হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত ছিল, কারা অর্থ জোগান দিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে– এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দশ দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন।’
কোর্ট ইন্সপেক্টর পিটিশ কুমার সরকার আসামিকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে দেওয়ার আবেদন করছি। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামি তুষার কান্তি মণ্ডলকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে পুলিশের কঠোর পাহারায় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।’
১৮ সেপ্টেম্বর তুষার কান্তি মণ্ডলকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিকে রংপুর নগরীর সিটি বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই নিহত শিক্ষার্থী তাহির হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে আজ বুধবার তাকে মিরাজুল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আবারও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।