নেতাদের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া শাখা। রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এর আগে শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বরে হামলার শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এতে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ ও মুখ্য সংগঠক এম ডি বেলাল হোসেন বাঁধনসহ কয়েকজন আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামলার পর আমাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশকে আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।’
হামলায় গ্যাং গ্রুপ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার মেলা প্রাঙ্গণে কোনো কারণ ছাড়াই অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। হামলাকারী সাত জনকে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া স্যাম সাদী, আমির হামজা ও প্রেম নামে তিন জন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাঠে স্যাম সাদীর উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।
পৌরসভা চত্বরে মেলা প্রাঙ্গণে হামলার সময় হামলাকারীরা অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা মেয়েদের উত্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে মোস্তাফিজ বলেন, ‘সেখানে কোনো মেয়ে ছিল না, টিজ করার তো প্রশ্নই আসে না।’
হামলার পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কর্মী ও কিশোর গ্যাং বাহিনীর সদস্যরা মোস্তাফিজ, শ্রেষ্ঠ, বাঁধন ও হুমাইরা কবিরের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা এবং মারধর করে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাবুর রহমান শিহাব বলেন, ‘হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তবে এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।’