চট্টগ্রামের রাউজানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার অভিযোগে আবদুল্লাহ আল হামিম (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামিম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার রাতে হামিমকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার বিকালে রাউজান উপজেলা অডিটোরিয়ামে রাউজান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন রাফি। সেখানে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘ঘটনা প্রবাহ, চলমান সংকট ও নিরসন, আজকের প্রজন্ম ও আগামীর বাংলাদেশ’। সেখানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রাউজানের ছাত্র প্রতিনিধি (সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত) এম আবেদীন সাজিদ বলেন, ‘আবদুল্লাহ আল হামিদ নামে একজন পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তারা ছাত্রলীগ ও সেন্ট্রাল বয়েজ অফ রাউজানের সদস্য। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সভাস্থল থেকে আবদুল্লাহ আল হামিমকে আটক করে রাতে পুলিশে সোপর্দ করেন।’
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মুহাম্মদ বেলাল বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলায় ছাত্রলীগ কর্মী হামিমকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা জোর করে সভায় ঢুকতে চাইলে ছাত্ররা বাধা দেন। পরে তারা হামলা চালিয়ে রাফিসহ কয়েকজনকে আহত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হামিম রাউজান আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিমের সংগঠন ‘সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানের’ কর্মী ছিলেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভায় হট্টগোলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’